চট্টগ্রামে একাধিক জোড়া খুনসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজির ঘটনায় বারবার নাম আসা রায়হান আলম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে লক্ষ্য করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। ওই পোস্টে রায়হান লিখেছেন, ‘দোযখ আর জাহান্নামে তফাৎ কি মাসুদ স্যার?’ কিন্তু কেন পলাতক এই সন্ত্রাসী এরকম পোস্ট দিয়েছেন?
গেল সপ্তাহে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ‘অল্পের’ জন্য পুলিশের হাত থেকে রায়হান ফসকে গেছেন বলে দাবি করেছিলেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
রায়হানের সহযোগী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর গেল ৩০ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেছিলেন, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটি বাড়িতে ছিলেন রায়হান। ২৯ জুলাই পুলিশের অভিযানে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।
তিনি বলেছিলেন, ‘অলৌকিকভাবে সে (রায়াহন) বেঁচে গিয়েছিল। সে জাহান্মাম দেখেনি, দোজখ দেখে ফেলেছে।’
পুলিশ সুপারের এ বক্তব্যের পর গেল সোমবার স্যুট পরে প্রাইভেট কারে বসা নিজের ছবি পোস্ট করে রায়াহন পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে লক্ষ্য করে ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, ‘দোযখ আর জাহান্নামে তফাৎ কি মাসুদ স্যার?’
এই পোস্টে রায়হান পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যেতে তাকে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদও দিয়েছেন স্থানীয় লোকজনকে।
রায়হান লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ নোয়াখালী রংমালার মানুষদের তারা এমন নিকুত (নিখুঁত) ভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, বিপদে সাহায্য সহযোগীতা (সহযোগিতা) পাবার জন্য ভালো খারাপ সব লেভেলের মানুষ আশা করে, যা আমি ও পেয়েছি নোয়াখালী থেকে।’
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের কাছে রায়হানের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রায়হান কোথায় আছে আমরা জানি না। সোশাল মিডিয়ায় আমরা তাকে দেখছি।’
নোয়ালাখীর অভিযানের কথা তুলে ধরে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জের রংমালা এলাকায় তাকে ধরতে আমরা পাঁচ ঘণ্টার চিরুনি অভিযান করেছিলাম। আল্লাহ রহম করছে, সে পুলিশের কাছ থেকে বেঁচে গেছে।’
রায়হানের ফেইসবুক পোস্ট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই এলাকার কিছু দুষ্ট লোক তাকে আশ্রয় দিয়ে লুকিয়ে রেখেছে। সেজন্য সে স্ট্যাটাসে তাদের ধন্যবাদ দিতে ভুলে নাই।’
চট্টগ্রামে সরোয়ার হত্যা, জোড়া খুনসহ বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোচিত নাম এ রায়হান। নগরীর পাশাপাশি জেলার কয়েকটি হত্যাকাণ্ডেও আলোচনায় আসে তার নাম।














