১৫ অক্টোবর ২০২৬

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে নিহত ২৮

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে। ডন লিখেছে, তাদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষার্থী ও একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন।

বৃহস্পতিবার পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফয়জি জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান চলছে।

এর আগে সেখানকার লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির ডনকে বলেন, আল খায়ের স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।

দুর্ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ছিল বলে তার দপ্তরের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়। এতে বলা হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন।

সামিউল্লাহ নামের এক অভিভাবক ডনকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে আট বছরের কম বয়সি তিনটি মেয়ে শিশুকে উদ্ধার করেন তিনি।

সামিউল্লাহ বলেন, ‘সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে বাড়ি থেকে ফোন পাই। প্রায় ১০ মিনিট পর, সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। আমাদের ছয় সন্তান এই স্কুলে পড়ে। ভবনটি দেখে ভেবেছিলাম, ধসে পড়া প্রথম তলার নিচে, একতলার একটি শ্রেণিকক্ষে থাকা আমার ছেলেও মারা গেছে। কিন্তু সে পানি খেতে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়েছিল।’

এদিকে স্কুলের ছাদ ধসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি।

কী কারণে ছাদ ধসে পড়েছে তা তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘নিষ্পাপ শিশুদের মূল্যবান জীবন হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক এক ট্র্যাজেডি।’

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক্স পোস্টে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

ইসহাক দার বলেন, ‘আমাদের শিশুরা সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের এমন প্রতিটি মৃত্যু পুরো দেশের জন্যই এক ট্র্যাজেডি…শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি গভীর শোক প্রকাশ করে এক্স পোস্টে বলেছেন, ‘হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো জাতি শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে ছাদ ধসের কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কথা বলেছেন তিনি। একইসঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নিরাপত্তার মানদণ্ড মেনে তৈরি কি না, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

ডন লিখেছে, পাকিস্তানে ভবন ও ছাদ ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়।

গত জুলাইয়ে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের একাংশ ধসে তিন থেকে ১৩ বছর বয়সি তিন মেয়েশিশু নিহত হয়। একই মাসে লাহোরের বাগবানপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বেসরকারি স্কুল ভবনের ছাদ ধসে এক শিশু নিহত হয়। আহত হন অন্তত পাঁচজন।

জুনে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত হয়। এর দুই মাসেরও কম সময় আগে ডেরা গাজি খানের একটি বেসরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছিল।

গত সপ্তাহে পাকপত্তনে ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সময় একটি বাড়ির ছাদ ধসে দুই ব্যক্তি নিহত হন। জুন ও অগাস্টে ছাদ ধসে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ