২৪ অক্টোবর ২০২৬

আসছে ৫৪৮ কোটি টাকার সুরক্ষা প্রকল্প

পারকি সৈকত রক্ষায় বড় পরিকল্পনা, এবার কি মিলবে স্থায়ী সমাধান?

চট্টগ্রামের আনোয়ারার পর্যটন কেন্দ্র পারকি সমুদ্র সৈকত ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রায় ৫৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি সুরক্ষা পাবে পারকি সৈকত, কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী আনোয়ারা উপজেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকার মধ্যে ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ব্লকের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হলেও রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া থেকে পারকি সমুদ্র সৈকতসংলগ্ন প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা এখনো অরক্ষিত রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় এসব এলাকা ব্যাপক ঝুঁকিতে পড়ে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উপকূলের বিস্তীর্ণ অংশ সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউছুপ বলেন, ‘প্রতিবার ঘূর্ণিঝড় এলেই আমাদের রাতে ঘুম থাকে না। কখন পানি ঢুকে যায় সেই ভয় কাজ করে। সরকার যদি দ্রুত কাজ শুরু করে, তাহলে উপকূলের মানুষ উপকার পাবে।’

পারকি সৈকতের স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, ‘একসময় পারকি সৈকতে প্রচুর পর্যটক আসত। কিন্তু ভাঙন আর অপরিকল্পিত অবস্থার কারণে এখন আগের মতো পরিবেশ নেই। সৈকত রক্ষা হলে পর্যটক বাড়বে, আমাদের ব্যবসাও ঘুরে দাঁড়াবে।’

এই পরিস্থিতিতে উপকূল রক্ষা ও পর্যটন খাতকে টেকসই করতে ‘পারকি সি-বিচ সংরক্ষণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড। ৫৪৮ কোটি ১৯ লাখ ২৬ হাজার টাকার এই প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা সংরক্ষণ করা হবে।

প্রকল্পের অধীনে ৩০ দশমিক ৩৮ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ৩ দশমিক ৪৬০ কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ, ২ দশমিক ৭৩০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশনের জন্য দুই ভেন্টবিশিষ্ট একটি রেগুলেটর স্থাপন, ২ দশমিক ৭৩০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ এবং ১ দশমিক ৬০০ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে, উপকূলীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং লবণাক্ত পানির প্রবেশ কমে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় সাপমারা খালে মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদ আশ্রয় পাবে এবং উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী গড়ে উঠবে।

গত কয়েক বছরে আম্ফান, ইয়াস, সিত্রাং, মোখা, হামুন ও রেমালের মতো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বেড়িবাঁধ, বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মৎস্য প্রজেক্ট, বাজার ও সড়কের পাশাপাশি পারকি সমুদ্র সৈকতেরও ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। ফলে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও হুমকির মুখে পড়ে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, ‘পারকি বিচ উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটি নিয়ে যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে এর ডিজাইন প্রস্তুতের কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘মূলত পারকি সমুদ্র সৈকত ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সুরক্ষার জন্যই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে উত্তর পরুয়াপাড়া থেকে পারকি বিচ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা সুরক্ষার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে মানুষের বসতি ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও রক্ষা পাবে।’

তিনি আরও জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ