চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক গণসমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমাবেশে তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘২৪ জুলাইয়ের ঘটনা কি আপনারা দেখেননি? তখন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা থানাগুলোতে আগুন দিয়েছিল। জনগণের টাকায় পরিচালিত পুলিশকে পিটিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। এ দৃশ্য কি আপনারা দেখেননি?’
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী টানেল মোড়ে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে জুবাইরুল আলম মানিক অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হলেও স্থানীয় প্রশাসন এখনো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। তার দাবি, উপজেলা ও থানা প্রশাসনে দলীয় প্রভাব এখনো রয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
তিনি বলেন, টিসিবি ও ওএমএসের মতো সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা সাধারণ মানুষের পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টন হচ্ছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড কিংবা বিভিন্ন সরকারি সেবার ক্ষেত্রেও জনপ্রতিনিধির সুপারিশ চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জুবাইরুল আলম মানিক বলেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনের দলীয়করণের সমালোচনা করা। তিনি দাবি করেন, বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তবে পুরো বক্তব্যে তিনি অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটই তিনি বক্তব্যে তুলে ধরেছেন বলে দাবি করেন।
সমাবেশটি আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আবদুল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবুল হাছান খোকা। এতে ১১-দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।














