৩০ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের ঘেরাও ভেঙে ছাদ থেকে লাফ, অল্পের জন্য পালাল কিলিং স্কোয়াডপ্রধান রায়হান

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত সন্ত্রাসী এবং বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদ বাহিনীর কথিত কিলিং স্কোয়াডপ্রধান রায়হান আলমকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, চারদিক থেকে বাড়িটি ঘিরে ফেলার পর ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রংমারা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়। স্থানীয় কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশও অভিযানে সহযোগিতা করে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বুধবার রাতে জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালায়। তবে যাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য করা হয়েছিল, তিনি শেষ মুহূর্তে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরুল হাকিম বলেন, রংমারা এলাকার একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন রায়হান আলম। তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটি ঘিরে ফেলার পর অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে তিনি ভবনের ছাদে উঠে যান। পরে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, রায়হান আলমের অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই তথ্য যাচাই করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পালিয়ে যাওয়ার পর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও তল্লাশি চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘রায়হান আলমকে খুব কাছাকাছি গিয়েও ধরা সম্ভব হয়নি। অল্পের জন্য তিনি পালিয়ে গেছেন। তবে তার অবস্থান শনাক্তে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

পুলিশের ভাষ্য, রায়হান আলম বর্তমানে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রামে বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বাহিনীর কিলিং স্কোয়াডের নেতৃত্বও দিচ্ছেন রায়হান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রায়হান আলমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একাধিক হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক মাসুদ হত্যা মামলাসহ কয়েকটি আলোচিত মামলায় তার নাম এসেছে। এছাড়া বাকলিয়ার জোড়া হত্যা মামলাতেও তিনি আসামি।

একই রাতে চট্টগ্রামের আরেক আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে রায়হান আলম পালিয়ে যাওয়ায় বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তার এবং রায়হান আলমের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। তবে রায়হান আলমকে গ্রেপ্তার করা না গেলে বাহিনীটির সাংগঠনিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

আরও পড়ুন