২৯ অক্টোবর ২০২৬

ফিরে দেখা ৫মে : হেফাজত এখন পুরোই ব্যাকফুটে

সৈকত জোহা »

শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের আট বছর পূর্ণ হল । ২০১৩ সালের সেই ঘটনার পর নিজেদের অনেকটা গুছিয়ে নিলেও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী চলাকালে নরেন্দ্র মোদীর আগমন উপলক্ষে চালানো বিক্ষোভ ও তাণ্ডবের ঘটনায় আবারো পুরোপুরি ব্যাকফুটে ।

২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম আল্লামা শফির নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করেছিল। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সহিংসতা করে তারা আলোচনায় আসে।

২০১৩ সালের ৫ মে আল্লাহ ও রাসূল এবং পবিত্র কোরআন-হাদিসের অবমাননাকারীদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম । সেই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হেফাজতের নেতারা নানা উস্কানিমূলক কথাসহ সরকার পতনের ডাক দিয়েছিল। এমনকি রাজধানীর বায়তুল মোকারমসহ বিভিন্ন স্থাপনায় নারকীয় হামলা করেছিল হেফাজত কর্মীরা । হেফাজতের সেই সহিংসতায় প্রায় ৬৩ জন মারা যায়। সেই সময় পুলিশ বাদী হয়ে ৬৮ টি মামলাও করেছিল।

সেই সময় হেফাজতের পক্ষ থেকে আড়াই হাজার মানুষ নিহত হবার দাবী করা হলেও সেই দাবীর কোন যথার্থতা খুঁজে পাওয়া যায় নি ।
৫ই মে হেফাজতের সেই তাণ্ডবলীলার পর সরকার তাদের অনেক ছাড় দিলেও হেফাজতের নেতাদের রাজনৈতিক অভিলাষ কখনো শেষ হয়নি। মাদ্রাসার ছাত্রদের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে সরকার তাদের স্বীকৃতিও দিয়েছিল।

সম্প্রতি ২০১৩ সালের দায়ের করা মামলায় হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির অনেক শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সেক্রেটারি মামুনুল হক , হেফাজতে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজী ,হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক মুফতি শরীফউল্লাহ। মুফতি শরীফউল্লাহ হেফাজতের ঢাকা মহানগর কমিটিরও সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০১৩ সালের ৬ মে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় (নং ২০) তিনি এজাহারনামীয় আসামি।

এছাড়া আরও গ্রেফতার হয়েছেন ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমেদ, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব। তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি সহিংসতার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার হয়েছেন মুফতি হারুন ইজহার। তিনি হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির শিক্ষা ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। হারুন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মুফতি ইজহারুল ইসলামের ছেলে।

হেফাজতের সাম্প্রতিক এই অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে হেফাজত নেতারা কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি । হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির একজন নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আমাদের কিছু ভুলের কারণে আজ হেফাজতের প্রতি সরকার কঠোর হয়েছে। শাপলা চত্বরের ঘটনার পর সরকার আমাদের অনেক ছাড় দিয়েছিল। এমনকি আমাদের সনদের স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছিল । কিন্তু সাম্প্রতিক সহিংসতাসহ কিছু কারণে সরকারের সাথে আমাদের টানাপোড়ন দেখা দিয়েছে।

হেফাজতে ইসলাম নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতা বাংলাধারাকে জানান, মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদের কথা মাথায় রেখে হেফাজতকে সরকার নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিল। কিন্তু হেফাজত নেতারা মাদ্রাসার ছাত্রদের ভিন্ন উদ্দেশ্য ব্যবহার করছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে সহিংসতা করেছে এরপর তাদের আর ছাড় দেওয়া যায় না। সরকার এখন আইনগতভাবেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে হেফাজতের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। হেফাজতের নতুন আহ্বায়ক কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হলেন আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, আহ্বায়ক জুনায়েদ বাবুনগরী ও সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী, সদস্য আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী ও অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন