৪ মে ২০২৬

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এখনো মানুষের কল্পনা জাগ্রত হয়

চবি প্রতিনিধি »

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সোমবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনয়াতনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অথিতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিনম্র চিত্তে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময়ই জেল জুলুম সহ্য করেও বাঙালিদের স্বাধীকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে পিছপা হননি।

বাংলার মানুষের প্রতি অসীম ভালবাসা এবং অগাধ বিশ্বাসের ফলে তিনি তাঁর বাসভবনে উল্লেখযোগ্য কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখেননি। তিনি কখনো বিশ্বাস করেননি বাংলার মানুষ কোনদিন তাঁর বুকে গুলি চালাবে। স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি।

বঙ্গবন্ধু বাঙালির হৃদয়ে চির জাগরুক, চির অমলিন ও চির ভাস্বর হয়ে আছেন। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন নিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছিলেন আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁরই সুযোগ্য তনয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে ভিশন-২০৪১ ঘোষণা করেন এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা এক হয়ে কাজ করলে ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ দেখতে পাবো। প্রসঙ্গক্রমে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে বিরাজমান শিক্ষার সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি জ্ঞান-গবেষণায় সমৃদ্ধ আধুনিক বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে থাকবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিশিষ্ট কলামিস্ট ও দৈনিক আমাদের সময়ের উপদেষ্টা সম্পাদক আবুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক গুণে গুণান্বিত হওয়ার পাশাপাশি সৎ, ন্যায়-নিষ্ঠতায় ভরপুর ছিল তাঁর আদর্শ।

আমরা যদি বাংলাদেশে এর আগে বড় বড় নেতাদের ইতিহাস দেখি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানীসহ আরও অনেকে তাঁরা কিন্তু সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। এর পরেও বঙ্গবন্ধু তাঁদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। কারণ বঙ্গবন্ধুর ভিতরে কোনো স্বার্থ ছিল না। বঙ্গবন্ধু কোনোদিন কোনো বিষয়ে কারো সাথে আপোষ করেননি। যার কারণে প্রত্যেকটি আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছিলন।

বঙ্গবন্ধু সবসময় গণ মানুষের দাবির পক্ষে ছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে এগিয়ে গেছেন। সেই সাথে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবিটি স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত হয়। যার কারণে মানুষ বঙ্গবন্ধুকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে ভালবাসে এবং এখনো মনে রেখেছে। যে কবি তার একটি কবিতা হলেও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রয়েছে। যে সাহিত্যিক তার একটি গল্প হলেও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে মানুষ হৃদয়ে ধারণ করেছে।

তাই আজও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মানুষের কল্পনা জাগ্রত হয়। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির অবসান ঘটেনি। বঙ্গবন্ধুকে সৃষ্টিশীল মানুষরা মনে-প্রাণে ধারণ করেছে। সভাপতির বক্তব্যে চবির রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীদের জাতির জনকের স্বপ্ন পূরণে বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় সকলকেই এগিয়ে আসার আহবান জানান।

এর আগে প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে চবি বঙ্গবন্ধু চত্বরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শোক র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। দুপুরে আমন্ত্রিত অতিথি এবং উপস্থিত সকলের জন্য মধ্যহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ, চবির সাধারণ সম্পাদক মশিবুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সেকান্দর চৌধুরী, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর এ এফ এম আওরঙ্গজেব, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, চবির সিনিয়র সহ সভাপতি প্রফেসর ড. কামরুল হুদা, চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. জাকির হোসেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনুস গণি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ চবির সভাপতি প্রফেসর ড. রাশেদ উন নবী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, ইংরেজী বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মাইনুল হাসান চৌধুরী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা সুকন্যা বাশার, পালি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু, চবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুমন মামুন, রাশেদ চৌধুরী এবং আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগসহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মী এতে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি

আরও পড়ুন