৩১ অক্টোবর ২০২৬

মনজুর আলমকে ঘিরে জল্পনা

বদলে যেতে পারে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ

এনসিপির শক্তি প্রদর্শন

চট্টগ্রাম নগর রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন, বড় পরিসরের যোগদান অনুষ্ঠান এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক মেরুকরণকে ঘিরে নগরজুড়ে এখন এনসিপিকে নিয়েই আলোচনা চলছে। চট্টগ্রামে এনসিপির সক্রিয়তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) নগরীর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এনসিপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৃহৎ যোগদান অনুষ্ঠান। মহানগর শাখার আয়োজনে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিতব্য এ কর্মসূচিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। একই সঙ্গে নগরের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

দলীয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও নাগরিক সমাজের পরিচিত ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন। যদিও কৌশলগত কারণে সম্ভাব্য যোগদানকারীদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এরই মধ্যে সাবেক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমকে ঘিরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বলে জানা যায়। সেই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নানা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সামনে আসে।

যদিও মনজুর আলম দাবি করেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বৈঠক ছিল না। তিনি জানান, হাসনাত আব্দুল্লাহ ব্যক্তিগত সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য তার বাসায় গিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি কাউকে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি বলেও জানান।

তবে নগরের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং সম্ভাব্য মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে মনজুর আলমের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার নাম ও ছবি ব্যবহারের ঘটনাও রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সমন্বয়কারী সদস্য রিদুয়ান হৃদয় বলেন, ‘সারাদেশে এনসিপিতে যোগদানের ধারা অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি আজকের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আমরা আশা করছি।’

দলীয় নেতারা বলছেন, এই যোগদান অনুষ্ঠান শুধু সদস্য অন্তর্ভুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামো, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং চট্টগ্রামে দলীয় বিস্তারের রূপরেখাও তুলে ধরা হতে পারে।

চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরে এনসিপির এই সক্রিয়তা আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্ব, নাগরিক রাজনীতি এবং বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রশ্নে দলটি কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, এখন সেদিকেই নজর সবার।

আরও পড়ুন