৬ নভেম্বর ২০২৬

বন্ধ শুধু স্কুল কলেজ, চলছে মেলা

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »

করোনার তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। তীব্রতা কমাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে। পনের দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রেণীকক্ষে এসে জমায়েত হয়। এতে করোনা সংক্রমনের হার ক্রমশ বাড়তে পারে। এমন শঙ্কায় সরকারের পক্ষ থেকে গত ২১ জানুয়ারি থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে খোলার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামে এর চেয়ে বড় জমায়েত উইম্যান চেম্বার অব কমার্সের বাণিজ্য মেলা ও তাঁত বস্ত্র মেলা চলমান রয়েছে। কেন বন্ধ করা হচ্ছে না মেলার মতোই জনসমাগম।

পাহাড়তলীস্থ শাহজাহান মাঠে মাসব্যপী বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে, গায়ের উপর গা ঘেঁষে ঘুরছে মেলা প্রাঙ্গনে ক্রেতারা। করোনা কোন ভয় নেই আগতদের মাঝে। মেলা প্রাঙ্গনে প্রায় দু’শটি স্টলই এখন টুইটুম্বুর থাকে ক্রেতাদের ভীড়ে। হাজার হাজার আগতদের ভীড়ে শীতের কনকনে রাতেও গরমে ঘামাচ্ছে আগতরা। কোল্ড ড্রিংকসও চলছে দেদারসে। কোন ফুসরত নেই স্টলগুলোর বিক্রয়কর্মীদের। মেলায় হাঁকডাক দিয়েই বিক্রয় নিশ্চিত করছে বিক্রয়কর্মীরা। ‘আপা আসেন, ভাইয়া আসেন। আরও ডাকছে ওভাবি লইয়া যান পছন্দের খান ‘কমদাম, বেশি কাম’। আরও চমকপ্রদ ডাকে ডাকছে বিক্রেতা, ক্রেতারাও ডাকে সাড়া দিয়ে স্টলে স্টলে ঘুরছে। নিজেদের টার্গেট পূরণ করছে ব্যবসায়ীরা আর ক্রেতারা।

এদিকে, সরকারী নির্দেশনা না মেনেই এ মেলা চলছে এমন অভিযোগ সচেতনদের। মেলার সুদৃশ্য প্রবেশ দ্বারইে সকলের নজরে পড়বে সুবিশাল সাইনবোর্ড। যাতে লেখা রয়েছে ‘সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখুন, মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষেধ, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন। এছাড়া ও মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, যারা সচেতনতা মূলক সাইনবোর্ড লাগিয়েছে তারাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলছে না। অথচ প্রতিদিন হাজারের উপরে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

এদিকে, কর্ণেল হাট এলাকায় মাসব্যাপী চলছে বস্ত্র ও তাঁত শিল্প মেলা। ক্রেতা সাধারনের হাঁটার মত জায়গা নেই ঠিকমতো, আর সেখানে স্টলেরও অভাব নেই। সেখানেও মহিলা ক্রেতার আধিক্য বেশী। ক্রেতারা যেমন মাস্ক থুঁতনির নিচে পরে আসে তেমনি বিক্রেতারাও মাস্ক ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করছে। কিছু কিছু স্টলে মাস্ক বিক্রয় হলেও খোদ বিক্রেতারাই সেখানে মাস্ক পরছে না। সরকারী নির্দেশনাতো মানছে না কেউই।

সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারী থেকে কোভিড নিয়ন্ত্রনে ও সংক্রমন হ্রাস করতে ১০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী প্রতিটি স্তরে ও বিভাগে এসব নির্দেশনা মানতে বলা হলেও কানে তুলছে না। ১৩ জানুয়ারী থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সার্বিকভাবে নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে বলা হয়েছে।

এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে— দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা বিক্রেতা এবং হোটেল রেস্তোরায় সকলকে মাস্ক পরতে অনুরোধ করা হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারী থেকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রাত আটটার মধ্যে বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে। শুধুমাত্র ঔষধের দোকান ও পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখতে পারবে। এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সময় স্বাস্থ্য সেবা তথা মাস্ক পরিধানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সরকারী নির্দেশনা মানতে কোন ধরনের ব্যতয় ঘটলে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইন অমান্যকারীকে আইনের আওতায় এনে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ