২ নভেম্বর ২০২৬

বাঁশখালীতে ১৭৪ ভবনের নকশায় অনিয়ম, সাবেক মেয়র দুদকের জালে

চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র এস এম তোফায়েল বিন হোসাইনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৭৪টি ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদনের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পৌরসভার নকশা অনুমোদন কমিটির সুপারিশ ছাড়াই এসব নকশা অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও মামলা দায়েরের অনুমোদনসংক্রান্ত নথি সূত্রে জানা গেছে, এস এম তোফায়েল বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৭ সালের ২২ জুন জারি করা স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিপত্রের নির্দেশনা অনুসরণ না করে ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন করেন। এতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে লাভবান হওয়া কিংবা অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বাঁশখালী পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান কার্যক্রমে সাবেক মেয়র এস এম তোফায়েলের দায়িত্ব পালনকালীন নকশা অনুমোদনের বিষয়টিও উঠে আসে।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস এম তোফায়েল ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি মোট ২৬৭টি ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন দেন। তবে এসব নকশা অনুমোদনের জন্য মাত্র দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভা দুটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ও ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। ওই দুই সভায় মোট ৮৯টি নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের দাবি, স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১৭ সালের পরিপত্র অনুযায়ী গঠিত নকশা অনুমোদন কমিটির সুপারিশ ব্যতীত বাকি ১৭৪টি ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। এভাবে নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এসব নকশা অনুমোদন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন এবং ভবনের তদারকি নিশ্চিত করতে পৌর মেয়রকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি নকশা অনুমোদন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির কার্যক্রম ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নির্ধারিত বিধান থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে দুদকের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর স্মারক নম্বর ০০.০১.১৫০০.৬২৩.০১.২৬৭.২০/চট্টগ্রাম-২/৩৯৬৮১-এর মাধ্যমে এস এম তোফায়েল বিন হোসাইনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন প্রদান করে। পরবর্তী সময়ে ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মামলা দায়েরের উদ্যোগ গ্রহণ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

দুদক সূত্রের নথি অনুযায়ী, অনুসন্ধান কার্যক্রমে পাওয়া তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তে আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন