চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীজুড়ে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী সাম্পান বাইচ উৎসব শেষ হয়েছে। রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত মনোমুগ্ধকর এ নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন হাজারো নারী-পুরুষ। বৈঠার ছন্দ আর ঢোলের তালে তালে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো নদী এলাকা।
বাইচ দেখতে কেউ এসেছেন বৈঠাচালিত নৌকায়, কেউ ইঞ্জিনচালিত সাম্পান, স্পিডবোট কিংবা ছোট নৌযানে। দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে মোজ্জামেল মাঝির দল। দ্বিতীয় হয় কাসেম মাঝির সাম্পান এবং তৃতীয় স্থান দখল করে রনি মাঝির সাম্পান। প্রতিযোগিতায় মোট ১১টি দল অংশ নেয়।
কর্ণফুলী নদীর দূষণ ও দখলের প্রতিবাদে ‘কর্ণফুলী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’ স্লোগানে আয়োজন করা হয় তিন দিনব্যাপী ‘সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সংস্কৃতি মেলা’। আয়োজন করে চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন। সহযোগিতায় ছিল আব্বাস কনস্ট্রাকশন।
বাইচ উপলক্ষে দুপুর থেকেই নদীর দুই তীরে জড়ো হতে থাকেন দর্শনার্থীরা। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌভ্রমণেও নামেন। দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দা আসিফ হাসান পরিবারসহ ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বাইচ দেখতে এসে বলেন, ‘প্রতি বছর এই আয়োজন হয়। মাঝিমাল্লাদের অনেকেই পরিচিত। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখতে এসেছি।’
কিছু নৌকায় ছিল মাইক ও শব্দযন্ত্র। সেখান থেকে ভেসে আসে কর্ণফুলী ও সাম্পান মাঝিদের নিয়ে জনপ্রিয় আঞ্চলিক গান; ‘ওরে সাম্পানওয়ালা, তুই আমারে করলি দিওয়ানা’ কিংবা ‘কর্ণফুলীরে সাক্ষী রাখিলাম তারে’ গানের তালে নেচে-গেয়ে আনন্দে মাতেন তরুণ-তরুণীরা। ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্রে জমে ওঠে উৎসবের আমেজ।
সাম্পান বাইচ উপলক্ষে বড় একটি ইঞ্জিনচালিত স্টিমারের ছাদে তৈরি করা হয় মঞ্চ। উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সরওয়ার জামাল নিজাম।
খেলা শেষে দক্ষিণ পাড়ের চরপাথরঘাটা সিডিএ মাঠ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস। প্রধান বক্তা ছিলেন প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইদ্রিস মিয়া, সজীব কান্তি রুদ্র, মো. আল আমিন হোসেন এবং মো. শাহীনূর আলমসহ স্থানীয় নেতারা। অতিথিরা বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণ কর্ণফুলী নদী সচল রাখতে হলে নদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত রাখতে হবে। সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলার মাধ্যমে সেই দাবিই জানিয়ে আসছেন আয়োজকেরা।
তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে চরপাথরঘাটায় বসে গ্রামীণ মেলা। সেখানে গৃহস্থালির সামগ্রী, হাঁড়ি-পাতিল, খেলনা ও বিভিন্ন পণ্যের দোকানে ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। শিশু-কিশোরদের আনন্দের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নাগরদোলা।














