২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাউজানে বিএনপির আলোচনা সভা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী

‘ভারত বাংলাদেশে একটি পুতুল সরকার চায়’

রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাউজান সরকারি কলেজ মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘ভারত এ দেশে একটি পুতুল সরকার চায়। আমরা যারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি, যারা নারায়ে তকবীরে বিশ্বাস করি, তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদ মেনে নেব না। সীমান্তের ওপারে বসে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তারা আমাদের শান্তিতে থাকতে দিতে চায় না।’

তিনি বলেন, নির্বাচন হয়েছে মাত্র ছয় মাস আগে। এই সময়ে সরকার কী দিয়েছে এবং কতটুকু দিতে পেরেছে, তা জনগণই মূল্যায়ন করবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে তার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ শুনে তিনি হাস্যরসের বিষয় হিসেবে নিয়েছেন। তার দাবি, ‘আমার জীবদ্দশায় এই মহিলা তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে আর দেশে ফিরে আসতে পারবেন না।’

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, এখন থেকেই চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে আলোচনা না করে যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি অযোগ্য কিংবা চাঁদাবাজ কাউকে জনগণের সামনে তুলে ধরব না। যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ নেই এবং যাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে, তারাই মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য।’

তিনি আরও বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন কঠিন হবে। কেউ যদি কেন্দ্র দখল করে নির্বাচিত হওয়ার চিন্তা করেন, তবে সেই ধারণা ভুলে যেতে হবে। এ ধরনের মানসিকতার প্রার্থীদের সঙ্গে তিনি থাকবেন না বলেও জানান।

রাউজান পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিম, বিএনপি নেতা আবু জাফর চৌধুরী, নুরুল হুদা, ফিরোজ আহমেদ, মো. হাবীব উল্লাহ মাস্টার, সালামত উল্লাহ, ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী টিপু, মুসলিম উদ্দিন ও ইউসুফ চৌধুরীসহ উত্তর জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

এ সময় উপজেলা কৃষক দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

সভা শেষে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এর আগে বিকেল আড়াইটার পর থেকে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ