লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে যেমন নেমে এসেছে শোকের ছায়া, তেমনি জন্ম নিয়েছে এক নিঃশব্দ ভালোবাসার হৃদয়স্পর্শী গল্প। আইনের চোখে গিয়াস উদ্দিন একজন হত্যা মামলার আসামি। কিন্তু তার পোষা বানর ‘রাজা’র কাছে তিনি শুধু মালিক নন— তিনি পুরো পৃথিবী। এই বৈপরীত্যই যেন নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে মানবতা আর সম্পর্কের সংজ্ঞা নিয়ে।
গত শুক্রবার রাতে রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল ইউনিয়নে ১৪ বছর বয়সী কিশোর অটোরিকশাচালক রাজিবকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অভিযোগ, হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন গিয়াস উদ্দিন। ঘটনার পর নিজের পোষা বানর ‘রাজা’কে সঙ্গে নিয়েই আত্মগোপনে চলে যান তিনি।
পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে সোমবার রাতে চাঁদপুর সদর উপজেলার ওয়্যারলেস এলাকা থেকে গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিস্ময়ের বিষয়— পালিয়ে থাকার পুরো সময়জুড়ে বানর ‘রাজা’ ছিল তার সঙ্গেই। আর গ্রেপ্তারের পরও সেই সম্পর্কের টান যেন একটুও কমেনি।
রায়পুর থানায় আসামিকে নিয়ে আসা হলে, বানরটিকে রাখা হয় মুক্ত অবস্থায় থানার চত্বরে। চাইলেই সে পালিয়ে যেতে পারতো, হারিয়ে যেতে পারতো অজানায়। কিন্তু না— মালিকের সান্নিধ্য ছেড়ে যায়নি সে। বরং সারারাত নির্ঘুম থেকে হাজতখানার আশেপাশে ছটফট করেছে, কখনো শিকের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, কখনো অস্থিরভাবে ছোটাছুটি করেছে।
এই দৃশ্য উপস্থিত সবার মনে এক অদ্ভুত আবেগের জন্ম দেয়। একদিকে একটি নির্মম হত্যার অভিযোগ, অন্যদিকে এক নির্বাক প্রাণীর নিখাদ ভালোবাসা— দুইয়ের এই বৈপরীত্য যেন হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে।
থানায় বানরসহ আসামি আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। অনেকেই বিস্ময় নিয়ে দেখেছেন ‘রাজা’র এই অদ্ভুত আচরণ। পুলিশ সদস্যদেরও বেশ বেগ পেতে হয়েছে বানরটির অস্থিরতা সামলাতে।
পুলিশ জানায়, নিহত রাজিবের বাবার দায়ের করা মামলায় গিয়াস উদ্দিনকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তবে বানর ‘রাজা’র জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাকে কোনো খাঁচায় আটকে রাখা হবে না— শিগগিরই বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।














