১৩ অক্টোবর ২০২৬

মির্জাখীল দরবারে প্রথমবার তিন দিনব্যাপী ওরশ শরীফ, ১৪ অক্টোবর শুরু

আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর প্রেম, নৈতিক উৎকর্ষ ও মানবকল্যাণের আদর্শকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ওরশ শরীফ। আগামী ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ আরেফুল হাই (ক.)-এর ওরশ উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

সিলসিলাহ-ই-আলীয়াহ জাহাঁগীরিয়াহর এ পবিত্র কেন্দ্রের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে তাসাউফের মূল অনুশীলন হিসেবে অন্তরের পরিশুদ্ধি, প্রবৃত্তির সংযম, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং সৃষ্টির প্রতি মমত্ববোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সাধনার লক্ষ্য হলো অহংকার, হিংসা, লোভ ও বিদ্বেষ থেকে অন্তরকে মুক্ত করে সততা, বিনয়, সংযম ও মানবিক মূল্যবোধে জীবন গড়ে তোলা।

তাসাউফের ঐতিহ্য অনুযায়ী, শরিয়তের বিধান অনুসরণ, তরিকতের সাধনা, হাকিকতের উপলব্ধি ও মারেফতের জ্ঞান অন্বেষণ আধ্যাত্মিক অগ্রযাত্রার পরস্পরসম্পর্কিত ধাপ। এ সাধনায় পীর-মুর্শিদের রুহানি দিকনির্দেশনা ও সান্নিধ্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠাও এ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।

মির্জাখীল দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক ধারার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন একাধিক প্রজন্মের পীর-মাশায়েখ। তাঁদের মধ্যে হজরত শাহ জাহাঁগীর শেখুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মোখলেসুর রহমান (ক.), হজরত শাহ জাহাঁগীর ফখরুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই (ক.), হজরত শাহ জাহাঁগীর শমসুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ মকছুছুর রহমান (ক.) এবং হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ আরেফুল হাই (ক.) উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে এ ধারার সাজ্জাদানশীন হজরত শাহ জাহাঁগীর ইমামুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা ড. মুহাম্মদ মকসুদুর রহমান (ক.)-এর তত্ত্বাবধানে দরবারের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ওরশ উপলক্ষে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, ফাতেহা, দোয়া মাহফিল এবং হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন (ক.)-এর জীবন ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দরবার শরীফে নিয়মিত খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, মিলাদ ও সামা মাহফিলের আয়োজন আধ্যাত্মিক চর্চার ধারাবাহিক অংশ হিসেবে পালিত হয়।

সুফি সাধনার অন্যতম মানবিক শিক্ষা হলো আত্মিক উন্নতির পাশাপাশি অন্যের কল্যাণে কাজ করা। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বিকাশের মাধ্যমে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠাও এ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, মির্জাখীল দরবার শরীফে প্রথমবারের এ ওরশ শরীফ ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে আধ্যাত্মিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং মানবকল্যাণের চেতনা আরও সুদৃঢ় করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ