প্রতিপক্ষের কয়েকজনকে বল পায়ে শরীরের নাচানো ঘোল খাইয়ে কিংবা ডি বক্সের বাইরে থেকে অবিশ্বাস্য কিছু শটে লিওনেল মেসিকে গোল করতে দেখে অভ্যস্ত ফুটবলপ্রেমীরা। তবে আজ ইন্টার মায়ামির ঘরের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে ভিন্ন এক মেসিকে দেখা গেল।
যা সাধারণত খুব কম সময়ে দেখা যায়। হেডে গোল করেছেন মেসি। তার ও কাসেমিরোর হেডের গোলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইন্টার মায়ামি। মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে ক্যাম্পেওনেস কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মায়ামি।
ক্যাম্পেওনেস কাপ হচ্ছে এক ম্যাচের বার্ষিক প্রতিযোগিতা। টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) কাপ চ্যাম্পিয়ন এবং মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের ক্যাম্পিওন দে ক্যাম্পিওনেস জয়ীরা। ২০১৮ সাল থেকে টুর্নামেন্টটি হয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার মায়ামির মাঠে ফাইনাল হয়েছে।
তাতে ঘরের মাঠের ফাইনালে শিরোপা হাতছাড়া করল না মায়ামি। মেক্সিকোর লিগা এমএক্স জয়ীদের হারিয়ে ঘরের মাঠের সমর্থকদের নিয়ে শিরোপা উদযাপন করল মায়ামি।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে মায়ামিকে আনন্দে ভাসান মেসি। সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন তিনি। আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়কের হেডে গোল করার কথা বললে নিশ্চিতভাবে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে গোল করার সবার আগে আসবে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচে দ্বিতীয় গোলটি মাথা দিয়ে করেন মেসি। অন্যটি করেছিলেন স্যামুয়েল ইতো।
১৭ বছর পর এবার আরেকটি ফাইনালে হেডে গোল করলেন মেসি। গোলটিতে একটা কীর্তিও গড়েছেন তিনি। মায়ামির হয়ে ১০০তম গোল পেয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী প্লে মেকার। ১১৪ তম ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। তার ক্যারিয়ারে যেকোনো ক্লাবের হয়ে দ্রুততম গোলের সেঞ্চুরি।
গোলের সংখ্যা ১০১ হতে পারত। ৫৫ মিনিটে করা মেসির গোলটি যদি অফসাইডে বাতিল না হতো। সুয়ারেজের পাস থেকে ওয়ান টু ওয়ানে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে জড়িয়েছিলেন মেসি।
সেই গোলের আক্ষেপ ভুলে পরে এক গোলে অ্যাসিস্ট করেন মেসি। আর যাকে অ্যাসিস্ট করেছেন সেই মেসি-কাসেমিরো জুটি এখন মায়ামির নিয়মিত চিত্র। মায়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত ৪ গোল করেছেন কাসেমিরো। যার তিনটিতেই অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। আজকের গোলটিও সেই চিরাচরিত কর্নার থেকেই। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়কের কর্নার থেকে গোল করেন ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক।
মেসি-কাসেমিরোর দিনে দারুণ সব সেভ দিয়েছেন মায়ামির গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার। নিশ্চিত ৪ গোল প্রতিহত করে মায়ামির শিরোপা জয়ে অবদান রেখেছেন তিনি।














