৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ১২ দিন পর ফের উৎপাদনে সিইউএফএল

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১২ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে রাষ্ট্রায়ত্ত চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরী।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ৪ মার্চ থেকে দীর্ঘ ছয় মাস সিইউএফএলের উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফের উৎপাদন শুরু হয়। তবে উৎপাদন শুরুর ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১৭ সেপ্টেম্বর ভোরে আবারও কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ ১২ দিন মেরামত ও ত্রুটি নিরসনের পর মঙ্গলবার বিকেলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ।

সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানাটি চালু থাকলে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন অ্যামোনিয়া ও ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন তিন কোটি টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে।

উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক উত্তম চৌধুরী বলেন, ‘চলতি বছরের ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর গ্যাস পেয়ে এবং যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর উৎপাদন শুরু হয়। প্রথমে অ্যামোনিয়া উৎপাদন এবং পরে ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়। কিন্তু দুই দিন পরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১৭ সেপ্টেম্বর ভোরে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ১২ দিন ত্রুটি নিরসনের পর মঙ্গলবার বিকেলে উৎপাদনে ফিরেছি।’

তিনি বলেন, ‘সিইউএফএল ৪০ বছরের পুরোনো একটি কারখানা। ফলে কখন কোন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, তার নিশ্চয়তা নেই। কারখানাটির কিছু যান্ত্রিক সমস্যা রয়েছে। এগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা চলছে। ঠিকমতো উৎপাদন করতে পারলে চলতি অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।’

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, কারখানাটি পুরোনো হওয়ায় বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ত্রুটি দেখা দিলে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতেও সময় লাগে। এছাড়া আগের তুলনায় বর্তমানে কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা কিছুটা কমেছে।

আরও পড়ুন