চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিখোঁজের পরদিন বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মো. হোসাইন (৬) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তার বাবা। সোমবার সকালে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহত হোসাইন উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। সে মাদরাসা আরবিয়া খাইরিয়ার নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে হোসাইন ছিল সবার ছোট। তার বাবা চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে বাড়ির পাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল হোসাইন। ছেলেকে খেলতে দেখে ঘরের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তার মা। খেলার একপর্যায়ে সবার অগোচরে কোথাও চলে যায় সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও শিশুটিকে খুঁজতে বের হন। এলাকায় মাইকিং করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে রাত ৯টার দিকে ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আনোয়ারা থানায় জিডি করেন বাবা আব্দুর রহিম।
সোমবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে পানি আনতে গিয়ে কয়েকজন নারী শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন মরদেহটি উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
হোসাইনের প্রতিবেশী মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘হোসাইন গতকাল সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাইনি। এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। ভেবেছিলাম, হয়তো কোথাও আছে, খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু সকালে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলো।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। গতকাল রাতে খবর পেয়ে তার বাবাকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে শিশুটির বাড়িতে এসেছি। হোসাইনকে হারিয়ে পুরো পরিবারে শোকের মাতম চলছে।’
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, আব্দুর রহিম রাতে ছেলের নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি করেছিলেন। সোমবার সকালে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে শিশুটি সাঁতার না জানায় অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।














