২৯ অক্টোবর ২০২৬

লকডাউনে ভালো নেই আনোয়ারার চার গুচ্ছগ্রামের ৩’শতাধিক পরিবার

খালেদ মনছুর, আনোয়ারা প্রতিনিধি »

টানা লকডাউনে নিম্ন আয়ের মানুষ আজ দিশেহারা। কাজ নেই। গাড়ী চলে না। নেই পর্যাপ্ত সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ। সবমিলিয়ে খেয়ে না খেয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছে আনোয়ারার বটতলী, বারখাইন ও চাতরী ইউনিয়নের চারটি গুচ্ছগ্রামের তিন শতাধিক পরিবার।

রমজানের দিনে তাদের দুঃখ-দুর্দশা বেড়েছ দ্বিগুণ। মাঝে মাঝে অনেকের ঘরে সেহরীতে চুলা জ্বলে না। কোনোমতে টেনেটুনে ইফতারিটা সারতে গণধঘর্ম হতে হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম আর লোকচক্ষুর আড়ালে হওয়ায় ত্রাণ বিতরণকারী লোকজনের তালিকায়ও স্থান হয় না তাদের। ফলে কেউ গুচ্ছগ্রামে ত্রাণ দিতে গেলে এক প্রকার হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন তারা। অনেকে আবার ত্রাণ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরেও যাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, আনোয়ারার বটতলী, বারখাইন ও চাতরী ইউনিয়নে কয়েক ধাপে চারটি গুচ্ছগ্রাম স্থাপন করা হয়। করোনায় কয়েকদফা লকডাউনের কারণে গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী লোকজন পড়েছেন বিপাকে। কাজ না থাকায় অলস বসে থেকে সময় পার করছেন বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত পুরুষ ব্যক্তিরা। ফলে পরিবারের নারী, শিশু, বৃদ্ধদের নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করছে বাসিন্দারা।

গেল বছর সরকারি-বেসরকারিভাবে ব্যাপক ত্রাণ বিতরণ করা হয়। চলতি লকডাউনে ত্রাণ বিতরণ নেই বললেই চলে। যেটুকু অল্প-স্বল্প ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তা স্থানীয় পর্যায়েই বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্গম এলকায় হওয়ায় গুচ্ছগ্রামের লোকজন তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। সবচেয়ে কষ্টে আছে শিশু ও বয়স্করা। খেয়ে না খেয়েই চলছে তাদের দিন। সরকারি বেসরকারি ত্রাণ বিতরণে গুচ্ছগ্রামের লোকজনকেও অন্তর্ভূক্ত করার দাবী জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, আমি সিএনজি ট্যাক্সি চালাতাম। লকডাউনে গাড়ী চলে না। বের করলে পুলিশ ধরে মামলা দেয়। এখন পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।

ষাটোর্ধ বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম বলেন, লকডাউনে ছেলেরা কাজ-কর্ম করতে পারছে না। রমজানের দিনে অনেক কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। সমাজের বৃত্তবানেরা যদি ফিরে চায় তাহলে আমরা একটু ভালভাবে খেয়েদেয়ে বাঁচতে পারব।

বটতলী ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ মান্নান চৌধুরী বলেন, গুচ্ছগ্রামগুলো একটু আঁড়ালে হওয়ায় অনেকের চোখে পড়ে না। বিত্তবানেরা যারা ত্রান দেন তাদেও প্রতি দুষ্টি আকর্ষণ করব, তারা যাতে গুচ্ছগ্রামের বিষয়টা ভুলে না যায়।

আজকে আনোয়ারা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ২০০ পরিবারে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। আগামীতে অন্যদেরও এগিয়ে আসার আহন জানাই।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন