চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মইজ্জ্যারটেক হাইওয়ে সড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের স্থাপন করা একটি বড় সাইনবোর্ড নিয়ে জনভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কের পাশের জায়গাজুড়ে সাইনবোর্ডটি স্থাপন করায় যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়েছে। এতে বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনগুলো চলাচলে সমস্যায় পড়ছে।
সম্প্রতি মইজ্জ্যারটেক এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একেবারে পাশে বড় আকারের ‘ফিরিঙ্গিবাজার ব্রিজ ঘাট’ লেখা সওজের একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সাইনবোর্ডটির নিচের অংশে কাঠের বেঞ্চ ও বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয়েছে। এর ফলে সড়কের পাশের জায়গার একটি বড় অংশ যানবাহন চলাচলের বাইরে চলে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে এমনিতেই যানবাহনের চাপ থাকে। তার ওপর সড়কের পাশে বড় আকারের সাইনবোর্ড স্থাপন করায় ছোট যানবাহনগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল ও মোড় নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছে। এতে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
মইজ্জ্যারটেকের এই সড়কটি চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। একইসঙ্গে বান্দরবানসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার মানুষও এ সড়ক ব্যবহার করেন। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে।
বিষয়টি প্রথম নজরে আনেন সিএমপি বন্দর জোনের ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) আবু সাঈদ বাকের। তিনি বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জনসাধারণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সড়কের পাশে সওজের স্থাপন করা সবুজ সাইনবোর্ডটি অন্যদিকে উপযুক্ত জায়গায় খুঁটিতে আরো উপরে করে স্থাপন করা হলে অনেকাংশ জায়গা অবমুক্ত হবে। এতে সিএনজিসহ ছোট যানবাহনগুলোর চলাচলে সুবিধা হবে। বিষয়টি জনস্বার্থে সওজ বিবেচনা করতে পারে।’
মইজ্জ্যারটেক এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। সাইনবোর্ডটি অপরিকল্পিতভাবে বসানো হয়েছে। এটি আরেকটু পাশে সরানো হলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতো। যানবাহন চলাচলে সুবিধা হতো এবং মইজ্জ্যারটেক মোড়ের যানজটও কিছুটা কমতে পারত। সওজ বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু আমাদের জানানো হয়েছে, আমরা ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে সরেজমিনে দেখে বিষয়টি যাচাই করব। জনস্বার্থে যদি কিছু করার সুযোগ থাকে, অবশ্যই সওজ তা করবে। তবে সাইনবোর্ডটি সরালে অন্য কোনো সমস্যা হবে কি না, সেটিও দেখতে হবে।’
সড়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে যেকোনো সাইনবোর্ড স্থাপনের ক্ষেত্রে যানবাহনের চলাচলের জায়গা, পথচারীর নিরাপত্তা, দৃষ্টিসীমা এবং সড়কের কার্যকর প্রস্থ বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। কোনো সাইনবোর্ড যদি সড়কের ব্যবহারযোগ্য অংশ সংকুচিত করে বা যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে সেটি সড়কের নিরাপদ দূরত্বে, উপযুক্ত স্থানে পুনঃস্থাপন করা জনস্বার্থে বেশি কার্যকর হতে পারে।
তবে সাইনবোর্ডটি সওজের নিজস্ব স্থাপনা হওয়ায় বিষয়টি সরানো বা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলগত পরিদর্শন ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সওজ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সাইনবোর্ডটির অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজন হলে এটি এমন স্থানে স্থানান্তর করবে, যাতে সড়কের জায়গা অবমুক্ত হয় এবং যানবাহন চলাচলে জনভোগান্তি কমে।













