নামিদামি মিষ্টান্ন ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বনফুলের খাবার তৈরির কারখানায় মিলেছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র। খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজে অবাধে বিচরণ করছে তেলাপোকা, উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ। এমনকি মানহীন বেনামী ঘি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী।
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির আউটলেট ও কারখানায় অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এসব অপরাধে বনফুলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় নিয়মিত তদারকিমূলক অভিযানে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, বনফুলের আউটলেট ও কারখানা পরিদর্শনের সময় খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজে তেলাপোকার অবাধ বিচরণ দেখতে পান কর্মকর্তারা। এ ছাড়া খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন উপাদান ও উপকরণ। কোনো ধরনের মান, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় কিংবা লেবেলবিহীন বেনামী ঘি দিয়েও তৈরি করা হচ্ছিল বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। এসব অনিয়ম ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে পাঠানটুলি চৌমুহনী এলাকার একটি তেলের দোকানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তেল সংরক্ষণ এবং মোড়কজাত তেলের প্যাকেটে মেয়াদ ও মূল্য উল্লেখ না থাকায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে এম অ্যান্ড এস মেডিকোকে ৬ হাজার টাকা এবং সাঈদ মেডিকেল হলকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চার প্রতিষ্ঠানকে ৯৯ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে এবং প্রতারণামূলক উপায়ে খাদ্য প্রস্তুত করার দায়ে সংশ্লিষ্ট আইনের ধারায় বনফুলসহ চারটি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যের মান নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নগরজুড়ে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।













