৩০ অক্টোবর ২০২৬

সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক ভাঙতে বিশেষ নজরদারিতে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি

চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়, অস্ত্র সংরক্ষণ ও পালিয়ে যাওয়ার করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত এসব এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা, এপিবিএনের ক্যাম্প, স্থায়ী চেকপোস্ট ও রোড ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মো. নাজিমুল হক।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে নজরদারিতে রেখেছিল। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে অনুসরণ করে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, একপর্যায়ে তথ্য পাওয়া যায় যে ডেভিড ইমন ঢাকায় অবস্থান করছেন। সেখানে অভিযান চালানো হলেও তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে যশোরে চলে যান। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল যশোর পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীগুলোর নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। বিশেষ করে সাজ্জাদ বাহিনী, ইমন বাহিনী ও রায়হান বাহিনীসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

মো. নাজিমুল হক বলেন, অপরাধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মূলত দুটি করিডোর ব্যবহার করে পরিচালিত হতো। একটি জঙ্গল সলিমপুর এলাকা এবং অন্যটি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকা সন্ত্রাসীদের আশ্রয়, অস্ত্র মজুত এবং পালিয়ে যাওয়ার নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

তিনি জানান, এই নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে তিন উপজেলাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি একের পর এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গত দুই মাসে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ অস্ত্রসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশও অস্ত্রসহ দুই সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। এছাড়া আলোচিত ধামাই ইলিয়াস এবং সর্বশেষ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি আরও বলেন, শুধু ঘটনার পর অভিযান নয়, সন্ত্রাস দমনে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িজুড়ে ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তিসম্পন্ন এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, এপিবিএনের চারটি ক্যাম্প স্থাপন এবং স্থায়ী চেকপোস্ট ও রোড ব্লক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন