৫ নভেম্বর ২০২৬

সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্তের দাবি জানিয়ে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই দিনে গণঅভ্যুত্থানের সময় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি অভিযোগও দাখিল করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগটি দাখিল করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও রাষ্ট্রের তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এছাড়া ৫ আগস্ট পর্যন্ত কথিত আয়নাঘর, গুম, খুনসহ বিভিন্ন ঘটনায় তিনি কোনো প্রকাশ্য প্রতিবাদ বা অবস্থান নেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনায় তাঁর ‘মৌন সম্মতি’ ছিল বলেই অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন হাসিনুর রহমান।

ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, গুম, খুনসহ দেশে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। আইনজীবীদের উদ্ধৃতি দিয়ে তারা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইনের ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় কোনো গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনি দায়ের প্রশ্ন উঠতে পারে।

দলটির ভাষ্য, রাষ্ট্রপ্রধান ও তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তারা তৎকালীন সরকারকে সহযোগিতা করেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেননি এবং ক্ষমতার সুবিধাভোগী ছিলেন। ফলে সংঘটিত অপরাধের দায় থেকে তারা নিজেদের মুক্ত রাখতে পারেন না বলেই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, একই দিনে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামে আরেকটি সংগঠন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পৃথক একটি অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছেন। এ অভিযোগেরও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলো গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কি না বা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এছাড়া অভিযুক্তদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলো এ মুহূর্তে প্রমাণিত নয়; তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

আরও পড়ুন