পরিবারকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে এবার রাজপথে নেমেছেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের উত্তর পাঠানপাড়ার কয়েকশ নারী। স্বামী, সন্তান ও স্বজনদের মাদকাসক্তির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে চিকদাইর-পাঠানপাড়া সড়কে অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী মানববন্ধনে কয়েকশ নারী, তাদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের একটাই দাবি ছিল— মাদকমুক্ত হোক পরিবার, নিরাপদ হোক আগামী প্রজন্ম।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে এলাকায় উদ্বেগজনকভাবে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। এর ফলে স্কুলপড়ুয়া কিশোর, দিনমজুর, অটোরিকশাচালক ও প্রবাসফেরত অনেক যুবক মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক সংকট, সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক সংকট। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুমন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য মুহাম্মদ হোসেন।
এ সময় বক্তব্য দেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, সাবেক সর্দার মোহাম্মদ কামাল, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আবু তাহের, মোহাম্মদ সেকান্দর সওদাগর, মোহাম্মদ আব্দুল নবী, সর্দার মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ বেলাল, মোহাম্মদ গফুর, মোহাম্মদ আজিজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, একজন সদস্য মাদকে জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারের ওপর। তাই মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারীরা বলেন, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, পরিবার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষার তাগিদ থেকেই তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তারা জানান, এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় চিকদাইর পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও তোলেন।
এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও মাদকের তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উত্তর পাঠানপাড়ার নারীদের এই উদ্যোগ রাউজানের অন্যান্য এলাকাতেও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।














