আয়করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর প্রণোদনা বা কর ছাড়ের সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (২ আগস্ট) এনবিআরের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর নতুন বিধান অনুযায়ী কর পরিপালন সংস্কৃতি জোরদার এবং করদাতাদের উৎসাহিত করতেই এ সুবিধা চালু করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর-এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী স্বাভাবিক ব্যক্তি (Individual) এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF) আয়কর রিটার্নের সঙ্গে কর পরিশোধ করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা— যেটি কম হবে, সেই পরিমাণ কর প্রণোদনা পাবেন। তবে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করলে এ সুবিধা আর প্রযোজ্য হবে না।
এছাড়া, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭৩(২) অনুযায়ী পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা— যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
অন্যদিকে, ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করলে একই আইনের ধারা ১৭৩(৩) অনুযায়ী ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।
এনবিআরের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই রিটার্ন দাখিল করলে একদিকে যেমন করদাতারা কর প্রণোদনার সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে কর প্রশাসনের কার্যক্রমও আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য ২২ জুলাই ২০২৬ থেকে ই-রিটার্ন সেবা চালু হয়েছে। করদাতারা etaxnbr.gov.bd প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। একই সঙ্গে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে কর পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করা যাবে। কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের কল সেন্টার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে।














