গণপূর্ত অধিদপ্তরে কর্মরত কর্মচারীদের নয় দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে কক্সবাজারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মচারীরা। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার শহরের কলাতলী সড়কে গণপূর্ত কার্যালয় এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়নের কক্সবাজার শাখার সভাপতি আব্দুল আউয়াল জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক আশফাক আযম খান, সহ-সভাপতি সানাউল্লাহ, অর্থ সম্পাদক সুজয় পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খাইরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা নানা বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত নয় দফা দাবি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— কার্যভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বস্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতি, দৈনিকভিত্তিক ও ভাউচার কর্মচারীদের কার্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বা অস্থায়ী নিয়মিত পদে রূপান্তর এবং কর্মচারীদের মামলার রায় বাস্তবায়ন।
এ ছাড়া আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নিয়োগের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ প্রথা বিলুপ্ত করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সব কর্মচারীকে বার্ষিক পোশাক দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
কর্মচারীরা গণপূর্ত অধিদপ্তরে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চর্চার দাবি জানান। পাশাপাশি বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে টিনশেড বাসায় বসবাসরত কর্মচারীদের উচ্ছেদ না করা এবং আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে বসবাসকারী বহিরাগতদের দ্রুত উচ্ছেদের দাবি করা হয়।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন সব আবাসিক এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত, পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও রয়েছে তাদের।
সর্বশেষ দাবিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্থায়ী সেটআপ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। কর্মচারীরা বলেন, প্রায় পৌনে দুইশ বছরের পুরোনো এ অধিদপ্তরে পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী সেটআপ না থাকায় ড্রাইভার, মালি, কার্যসহকারী, প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, লিফটম্যান, ফরাস, গার্ড, সুইপার ও ঝাড়ুদারসহ মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।
তাদের দাবি, এসব পদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যক্রমের মেরুদণ্ড। তাই প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করে স্থায়ী সেটআপ বাস্তবায়ন করা জরুরি। কর্মচারী নেতারা বলেন, তাদের নয় দফা দাবি যৌক্তিক ও দীর্ঘদিনের। দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে— এমন প্রত্যাশা করেন তারা।












