সুরাইয়া রহমান তন্নী »
সালমা আক্তার। নবাবগঞ্জ সরকারি কলজে থেকে অনার্সের পর রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে শেষ করেছেন মাস্টার্স। পেয়েছিলেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরিও। কিন্তু এই চাকরি বেশিদিন টিকেনি। তবে সালমাও দমে যাওয়ার পাত্রী নন। চাকরি চলে যাওয়ার পর তিনি নিজেই গড়ে তুলেছেন শখের ‘মরিয়ম এগ্রো’। কোরবানি উপলক্ষে সেই এগ্রো’র ১০টি গরু নিয়ে এবার চট্টগ্রামের বিবিরহাটে এসেছেন সালমা। এই হাটে তিনিই একমাত্র নারী পশু বিক্রেতা।
সরেজমিনে গতকাল বুধবার (৬ জুলাই) বিবিরহাট গরুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সালমা আক্তারের এ উদ্যোগকে ঘিরে সবার মাঝে তৈরি হয়েছে আগ্রহ ও আকর্ষণ। আশপাশের পুরুষ ব্যাপারিদের সঙ্গে সমান তালে তিনিও যত্ন নিচ্ছেন গরুর, ক্রেতাদের সঙ্গে করছেন দর কষাকষি। কখনও পশুগুলোর খাবার মিশ্রণ করছেন; কখনও পরম মমতায় গরুর পরিচর্যা করছেন। আবার নিজেই তৈরি করছেন এদের খাবার। গরুর যত্নে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে সেজন্য রেখেছেনে র্কমীও।
কথা হয় খামারি সালমা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে গরু পালন করলেও এবছরই প্রথম হাটে নিয়ে এসেছি। এবার ১০টি গরু নিয়ে এসেছি। এখন পর্যন্ত ৩টি গরু বিক্রয় হয়েছে। আশা করছি, বাকিগুলোও এই হাটেই বিক্রি হয়ে যাবে।’


সফল উদ্যোক্তা সালমার ‘সফল’ হওয়ার পেছনের গল্প জানতে চাইলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, ‘মাস্টার্স পাশ করার পরই আমার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের এক বছরের মাথায় স্বামীর অত্যাচারে সেই সংসারও ছাড়তে হয়। এরপর মেয়ে কোলে নিয়ে যোগ দিই চাকরিতে। এর মধ্যে করোনার কারণে আমি চাকরিটাও হারাই। চাকরি হারালেও বসে থাকার মতো মেয়ে আমি নই। এরপর ভাবতে থাকি কি করা যায়। তখন মাথায় আসে গরুর খামার করার চিন্তা। আর এভাবেই ‘মরিয়ম এগ্রো’র যাত্রা শুরু হয়।’
‘শুরুতে ১টি গাভী দিয়েই যাত্রা হয় এ এগ্রো ফার্ম’র। জমানো টাকা দিয়ে কিনি সেই গাভী। প্রথম দিকে শুধু দুধ বিক্রি করতাম। পরে আয় বাড়লে আরও গরু কিনি। পরে ৬ কাঠা জমির ওপর গড়ে তুলি এই খামার।’— উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন সালমা আক্তার।


এত পেশা থাকতে এই পেশাতেই কেন— এমন প্রশ্নের জবাবে সালমা আক্তার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গরুর প্রতি আমার আলাদা এক ধরনের ভালোবাসা রয়েছে। তাছাড়া আমি মনে করি, মেয়েরাও পশু পালন করে স্বাবলম্বী হতে পারে।’
দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম আসার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আরও অনেকেই গরু নিয়ে বিবিরহাটে আসেন। তাদের দেখাদেখি এবার আমিও এসেছি। শুনেছি বিবিরহাটে নাকি গরুর ভাল দাম পাওয়া যায়।’
সালমার কাছ থেকে গরু কিনতে আসা মুরাদপুরের বাসিন্দা সোলায়মান বলেন, ‘দেশে আজ পুরুষের সাথে নারীরাও সমান তালে এগোচ্ছে। এখানে লজ্জার কিছু নেই। সালমা আক্তারের এই গল্প আমাদের দেশের অসহায় বাকি নারীদেরও দারুণ অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
বাংলাধারা/এসআরটি














