২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কটেজের সেপটিক ট্যাংকে ঢুকে অসুস্থ দুই শ্রমিকের মৃত্যু, হাসপাতালে মারামারি

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার »

কক্সবাজারে শহরের কলাতলী পর্যটন জোনের লাইটহাউজ এলাকায় ওশানীয়া নামের নির্মাণাধীন কটেজের সেপটিক ট্যাংক পরিস্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়েছেন আরও একজন।

রবিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে দিকে শহরের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনের সৈকত শরণ আবাসিকের কটেজ জোনে ওই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউপির জেলগেইট এলাকার আবদুল মোনাফের ছেলে নুরুল হুদা জাম্বু (২৫) ও পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সমিতি পাড়া এলাকার সোলায়মানের ছেলে আবুল হাশেম (৪৫)।

এই ঘটনায় অসুস্থ অপর শ্রমিক মো. হামিদ (২৬) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী অন্য শ্রমিকেরা জানান, শহরের পাহাড়তলির আবুল হোসেনের মাধ্যমে ভবনটির সেপটিক ট্যাংক পরিস্কার করতে যায় কয়েকজন শ্রমিক। প্রথমে একজন ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করলে তিনি বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হন। তাকে উদ্ধারের জন্য আরও দুইজন প্রবেশ করলে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ট্যাংকির উপরের ছাদ ভেঙে তিনজনঙকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় জাম্বু ও হাশেম দুইজন মারা যায়।

নিহতদের স্বজনেরা বলেন, কাজের কন্ট্রাক্টর পাহাড়তলীর আবুল হোসেনের অবহেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, লাশের ময়নাতদন্ত করা না করা নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এসে মৃত দুই শ্রমিকের দুই পক্ষের সাথে বিবাদও হয়।

এ বিষয়ে নিহত নুুরুল হুদার স্বজনরা বলেন, আমরা চাই এই ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি দিতে। সেজন্য লাশের ময়নাতদন্ত করতে। তবে অপরপক্ষ রাজি হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, হোটেল-মোটেল জোনের শরণ আবাসিক এলাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের জমিতে ১০-২০টি প্লট অবৈধ দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। সরকারি এসব জমি উদ্ধারে গণপূর্ত বিভাগে বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযানও চালিয়েছে। এ দখল প্রতিযোগিতায় রামুর মিঠাছড়ি এলাকার আশরাফের নির্মাণাধীন ওশানীয়া ভবনে শ্রমিকের এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে ভবন নির্মাণে চুক্তি নেয়া আবুল কন্ট্রাক্টর শ্রমিকদের লোভে ফেলে রাতের আঁধারে এবং সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করান।

নিহত শ্রমিক হাশেমের স্ত্রী হাসিনা বিবি বলেন, আমার স্বামীকে সেপটিক ট্যাংকে ঢুকিয়ে দিলে সেখানে অসুস্থ হয়ে মারা যান। মামলা করতে পারব কিনা এখনও জানি না। তবে লাশ পোস্ট মর্টেম না করার চেষ্টা করছি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফলতি দেখা গেছে। ঘটনার পর থেকেই ভবন মালিক ও ঠিকাদার উধাও।

তিনি আরও বলেন, একপক্ষ ময়নাতদন্ত করতে চাচ্ছে না তবুও দুইজনের ময়নাতদন্ত করা হবে। ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে চাইলে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন