কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা, কলাতলী এবং লাবনী পয়েন্টে অবৈধ ভাবে নির্মিত ৪১৭টি ঝুঁপড়ি দোকান উচ্ছেদ করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও উচ্ছেদ ব্যতিরেখে বালিয়াড়িতে পাবলিক টয়লেট এবং নতুন স্থাপনা বসানোর হিড়িক দেখে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার পর অবশেষে সোমবার (১০ অক্টোবর) দিনব্যাপী উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব আবু জাফর রশেদ, জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ানসহ অন্যান্য ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ফরিদুল আলম।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব আমিন আল পারভেজ বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বলেন, যাদের দোকান উচ্ছেদ হয়েছে তাদের প্রতি সরকার খুবই আন্তরিক। তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারকে জানানো হবে।
অভিযানকালীন র্যাব, পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন, ফায়ার সার্ভিসসহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং সদস্যরা উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখেন।
উল্লেখ্য, সৈকতের অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া গ্রুপে সম্প্রতি এক সাংবাদিক লিখেন— কক্সবাজার সৈকত পরিত্যক্ত ঘোষণা করা সময়ের ব্যাপার মাত্র!
প্রথমত, সৈকতের বালিয়াড়িতে খোলা জায়গায় বিশ্বের প্রথম পরিবেশবান্ধব টয়লেট নির্মাণ। এর প্রভাবে ইতিমধ্যে সৈকত জুড়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে; অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পর্যটকরা।
দ্বিতীয়ত, রাতের অন্ধকারে বালিয়াড়িতে পার্কিং ব্যবস্থা, অর্থাৎ টার্মিনাল করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, লকারের নামে বাণিজ্য।
চতুর্থত, নতুন করে সৈকতে দোকানপাট নির্মাণেরও সুযোগ দেয়া;
পঞ্চমত, উচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উচ্ছেদের পরিবর্তে হাজারের বেশি স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি!
এসব কারণে কক্সবাজার সৈকত পরিত্যক্ত ঘোষণা করা সময়ের ব্যাপার মাত্র! এমনটাই বলছে পরিবেশবিদ ও বিশ্লেষকেরা।
এ মন্তব্যের পরই সমালোচনা এড়াতে জেলা প্রশাসন সোমবার ঝুপড়ি গুলো উচ্ছেদে হাত দিয়েছে বলে মনে করছেন বোদ্ধা মহল।












