চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি বসতঘরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ এবং মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ এক পেশাদার ভাসমান চোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মো. তৌফিকুল ইসলাম ওরফে হৃদয় (২২)। সে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রেমাশিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত নুরুল আমিনের পুত্র বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরে আনোয়ারা উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আনোয়ারা থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ১২টা থেকে ১৫ জানুয়ারি ভোর ৫টার মধ্যে আনোয়ারা থানাধীন ৮ নম্বর চাতরী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডুমুরিয়া এলাকায় নয়া মিয়া কন্ট্রাকটরের বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির মালিক আলী হোসেন (৬০) নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁর মেয়ের স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও একটি ডিপিএস জমার বই নিজের বসতঘরে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠে তিনি ঘরের প্রধান দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরের একটি কক্ষে থাকা স্টিলের আলমারি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। আলমারির ভেতর থেকে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও একটি স্মার্টফোন চুরি হয়েছে বলে তিনি থানায় অভিযোগ করেন।
চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের নেকলেস, ১২ আনা ওজনের দুই জোড়া কানের দুল, আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, একটি ভিভো স্মার্টফোন, নগদ ১২ হাজার টাকা এবং একটি ডিপিএস জমার বই।
পরে ১৫ জানুয়ারি আলী হোসেন বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, চুরির ঘটনার পর আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সাথে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।













