১৬ এপ্রিল ২০২৬

এমপির ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পরও খাসজমির মাটি কাটার অভিযোগ

পারকি সৈকত প্রকল্পে লবণাক্ত মাটি ভরাটের অভিযোগে মানববন্ধন, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি সৈকত এলাকায় সরকারি খাসজমি থেকে লবণাক্ত মাটি কেটে পর্যটন কমপ্লেক্সের সবুজায়ন প্রকল্পে ভরাট করার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পরও মাটি কাটা বন্ধ না হওয়ায় বুধবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে পারকি সৈকতের পর্যটন কমপ্লেক্সের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আলম খান, পারকি সৈকত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ কাসেম, আনোয়ারা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, সদস্য জিয়াউর রহমান এবং বারশত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল মালেকসহ অন্যরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টানেল সার্ভিস এরিয়ার সরকারি খাসজমি থেকে স্কেভেটর দিয়ে লবণাক্ত মাটি কেটে ট্রাকে করে পারকি সৈকতের নির্মাণাধীন পর্যটন কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে। ওই জমিতে দুই বছর আগেও স্থানীয়রা লবণ চাষ করতেন বলে দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত মাটি কাটা বন্ধ, প্রকল্পের কাজের অনিয়ম তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ৮০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত পর্যটন কমপ্লেক্স প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রভাবশালী মহলের তদবিরে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আলম খান বলেন, “এমপির জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও সরকারি খাসজমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ হয়নি। আমরা অবিলম্বে মাটি কাটা বন্ধ ও প্রকল্পের অনিয়ম তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”

পারকি বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ কাসেম বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাজা ইঞ্জিনিয়ারিং এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজে অনিয়ম করছে। লবণাক্ত মাটি দিয়ে বাগান প্রকল্প ভরাট করা হচ্ছে, যা কার্যাদেশবিরোধী।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাজা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী সুজন সিংহ বলেন, “প্রকল্পের নিয়ম মেনেই কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সঠিক নয়।”

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সরকারি খাসজমি থেকে মাটি কাটার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি দুই দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলেও জানান।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং প্রকল্পের সব অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি জানান।

আরও পড়ুন