ভালো কাজ ও দ্রুত আয়ের আশ্বাসে দালালের প্রলোভনে পড়ে মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কক্সবাজারের যুবক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ কাজল।
প্রায় এক মাস পর শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তার মরদেহ নিজ গ্রাম রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপে পৌঁছালে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
গ্রামে মরদেহ পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন কাজলের মা। তিনি বলেন, আমার ছেলের এমন মৃত্যু মানতে পারছি না। দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
পরিবার সূত্র জানায়, জীবিকার আশায় দুই মাস আগে কাজল একই এলাকার আরও দুই তরুণের সঙ্গে মালয়েশিয়া যান। স্থানীয় এক দালাল দ্রুত বিদেশ পাঠানো ও ভালো চাকরির কথা বলে তাদের প্রলুব্ধ করেন। তবে সেখানে পৌঁছানোর পরই একটি পাচারচক্র তাদের জিম্মি করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে।
স্বজনদের অভিযোগ, ফোনে নির্যাতনের কথা জানিয়ে টাকা না দিলে মারধরের হুমকি দেওয়া হতো। পরিবার চাঁদা তুলে, গবাদিপশু বিক্রি ও জমি বন্ধক রেখে চার লাখ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দালালের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু সেই অর্থ নির্যাতনকারীদের কাছে পৌঁছায়নি। এরপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে একপর্যায়ে কাজলের মৃত্যু হয়।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কক্সবাজারে দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, মানবপাচার ও মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে কাজলের সঙ্গে যাওয়া দুই তরুণের একজন বর্তমানে মালয়েশিয়ার কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অপরজন বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন।












