সরকারি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের দুটি বৃহৎ সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-এর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল তিনটা থেকে কারখানা দুটির উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় বলে কারখানা সূত্রে জানা যায়। এতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলার গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) থেকে ইউরিয়া উৎপাদনে গ্যাস নেয় সিইউএফএল।
দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশনায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
জাপানের কারিগরি সহায়তায় ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় সিইউএফএল। কারখানা সূত্রে জানা যায়, সিইউএফএল স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১,১০০ থেকে ১,২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে। অন্যদিকে বেসরকারি কোম্পানি কাফকো প্রতিদিন প্রায় ১,৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১,৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর হওয়ায় পর্যাপ্ত চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ছাড়া উৎপাদন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। কম চাপের গ্যাসে উৎপাদন অব্যাহত রাখলে যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই নিরাপত্তা বিবেচনায় এবং সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার সরবরাহ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালু করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সরকারের নির্দেশনায় কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কারখানাটি পুনরায় চালু করা হবে।












