প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে প্রয়াত খালেদা জিয়ার মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি জাইমা রহমান। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে। তার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন নাতনি জাইমা রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাইমার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে বিকেল ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কৃত খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন।
তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং সব মিলিয়ে তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা খালেদা জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী।
১৯৮১ সালে একদল বিপথগামী সেনার হাতে জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করলে রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। নেতৃত্ব নেন বিএনপির।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বসহ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে ভূমিকার জন্য তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তার শাসনামলে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে তার ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসা পায়।
খালেদা জিয়াকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি রাখে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটলে তাকে কারামুক্ত করা হয়।
সব মহলের শ্রদ্ধার এই রাজনীতিবিদ কারাবন্দি অবস্থা থেকে নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ইন্তেকাল করেন তিনি। তার জানাজার নামাজে দেশের স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সমাগম হয়, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনতা অংশ নিয়েছিল।
পুরস্কৃত অন্য ব্যক্তিত্বরা হলেন—মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত),বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
এ ছাড়া পুরস্কৃত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো—মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।












