২৩ এপ্রিল ২০২৬

মিরসরাইয়ে সীমান্তে অবৈধ গরু বাণিজ্য নিয়ে সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা নিহত, মিরসরাই উত্তপ্ত

হামলার প্রতিবাদে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ, এলাকায় উত্তেজনা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় সীমান্তে অবৈধ পথে আসা গরু ব্যবসায়ীদের হামলায় গুরুতর আহত শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় (২৬) নামে এক ছাত্রদল নেতা মারা গেছেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় মারা যান।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচা নাজমুল হোসেন। হৃদয় করেরহাট ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এদিকে ছাত্রদল নেতা হৃদয়ের মৃত্যুর খবরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কয়লা বাজার। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কয়লা এলাকায় বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক প্রায় ২ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। হামলা চালানো হয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলালের বাড়িতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাতে উপজেলার কয়লা বাজারে অবৈধভাবে আসা একটি গরুর ট্রাক আটক করে স্থানীয়রা। গরুগুলো বদ্ধভবানী এলাকার বিএনপি নেতা মো. টিপু ও আব্দুর রহিমের সেল্টারে আনা হচ্ছিল, যা নিয়ে আসছিল টিপুর ভাই সুমন। তখন ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করে স্থানীয় যুবদল নেতা সবুজ ও তার সহযোগীরা। চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় সুমনকে মারধর করে সবুজ ও তার লোকজন। তখন আব্দুর রহিম কয়লা এলাকার বিএনপি নেতা আব্দুল আলিমকে ফোন দিয়ে বলেন, কয়লায় কে বা কারা তাদের গরুর গাড়ি আটকে রেখেছে, বিষয়টি দেখার জন্য। তিনি ব্যস্ততার কারণে যেতে পারবেন না বলে জানালে তার ছেলেকে হলেও পাঠাতে বলেন। তখন আব্দুল আলিম ছেলে শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় ও আনোয়ার হোসেনকে বিষয়টি দেখার জন্য কয়লা বাজারে পাঠান। ১৫ মিনিট পর তার কাছে খবর আসে ছেলে হৃদয় ও আনোয়ারের ওপর হামলা করা হয়েছে। এরপর দৌড়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়ের বাবা আব্দুল আলিম বলেন, অবৈধ গরু ব্যবসায়ী টিপু ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। ওইদিন রাতে টিপুর সহযোগী রহিম আমাকে বারবার ফোন দিয়ে তাদের গরুর ট্রাক কে আটক করেছে দেখতে বলেন। আমি সারাদিন বাইরে থাকায় ক্লান্ত ছিলাম। যেতে অপরাগতা প্রকাশ করলে আমার ছেলেকে হলেও পাঠাতে বলেন। এরপর আনোয়ারসহ আমার ছেলেকে কয়লা বাজারে ঘটনাটি জানতে পাঠাই। এর ১৫ মিনিট পর খবর আসে আমার ছেলের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি ছুটে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ৫ দিন প্রাণপণ চেষ্টা করেও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।

এ বিষয়ে মো. টিপু অবৈধ গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ওইদিন রাতে আমার ভাই সুমনের মাথা ফাটিয়ে দেয় সবুজ ও তার লোকজন। হৃদয়ের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, তার ওপর কারা হামলা করেছে জানি না।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, সংঘর্ষে আহত একজন হাসপাতালে মারা গেছেন। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর খবরে কয়লা এলাকায় কিছু লোক জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।

আরও পড়ুন