২৪ অক্টোবর ২০২৬

রেশমির চোখে সন্ত্রাসের গুলি, বাবার চোখে স্বপ্নভাঙার জল

‘মেয়ের মগজ বের হয়ে গেছে’— আইসিইউর সামনে বাবার আর্তনাদ

আইসিইউর

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর সামনে বসে আছেন অসহায় বাবা। চোখে ঘুম নেই— শুধু কান্না আর দীর্ঘশ্বাস। মাঝেমধ্যে ভেঙে পড়া কণ্ঠে বলছেন, ‘আমার মেয়ের মগজ বের হয়ে গেছে… আমার মেয়েটার কী দোষ ছিল?’

বলছি, নগরীর বায়েজিদে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে গুরুতর আহত ১১ বছরের শিশু রেশমির বাবা রিয়াজ আহমেদের কথা। তিনি রৌফাবাদ এলাকার একজন ভ্যানচালক। পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট রেশমিকে নিয়েই ছিল তার সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন। সেই রেশমিই এখন হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। কার্যত ‘ব্রেন ডেথ’র পর্যায়ে পৌঁছে গেছে সে। প্রতিটি মুহূর্ত যেন এখন শুধু এক অনিবার্য ঘোষণার অপেক্ষা।

গত ৭ মে বিকেলে বাড়ির পাশের দোকান থেকে মায়ের জন্য পান আনতে বের হয়েছিল রেশমি। পরিবারের ভাষ্য, সে সময় এলাকায় কয়েকজন সন্ত্রাসী একজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে ছোড়া একটি গুলি এসে লাগে রেশমির চোখে। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শিশুটি।

প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর থেকেই আইসিইউতে চলছে জীবন বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা।

হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই সে লাইফ সাপোর্টে ছিল। বর্তমানে তার কনশাস লেভেল শূন্যে নেমে এসেছে এবং তার রক্তচাপও স্বাভাবিক নেই। মাথায় বিদ্ধ গুলিটি অপসারণের মতো শারীরিক অবস্থাও তার ছিল না। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।’

আইসিইউর বাইরে বসে বাবা রিয়াজ আহমেদ শুধু কাঁদছেন। কখনো দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে, কখনো দুই হাত তুলে তিনি বলছেন, ‘আমার মেয়ে তো শুধু পান আনতে গিয়েছিল। ও কারও ক্ষতি করেনি। তাহলে কেন ওকে গুলি করা হলো?’

দরিদ্র এই বাবা শাকসবজি বিক্রি আর ভ্যান চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালান। অভাবের সংসারেও সন্তানদের পড়ালেখা শেখানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। রেশমি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সবাই তাকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন দেখত।

হাসপাতালের করিডোরজুড়ে এখন শুধু কান্না আর উৎকণ্ঠা। একমাত্র মেয়েকে ঘিরে মায়ের নীরব আহাজারি, বাবার অসহায় দৃষ্টি আর স্বজনদের অপেক্ষা— সব মিলিয়ে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ