চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বন্দর বিভাগের বিশেষ অভিযানে ২৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের পুরাতন নোহা বক্সি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, গত ১১ মে রাতে কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা কলেজ বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি (বন্দর) বিভাগের স্পেশাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফজলুল কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় নজরদারি করা হয়।
পরে আরিফ উল্লাহ শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীতে মেসার্স শোভা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে অবস্থানরত একটি সন্দেহভাজন মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
একপর্যায়ে গাড়ির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই চারজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলো— মো. জসিম উদ্দীন (৪৮), আব্দুর রহিম ওরফে টিপু (৩৪), মো. সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং গাড়িচালক মোহামুদুল হক (৪৪)। তাদের বাড়ি কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। পরে নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদকগুলো অত্যন্ত কৌশলে পরিবহন করা হচ্ছিল।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পূর্বে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এছাড়া আব্দুর রহিম ওরফে টিপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরও একটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর সারণি ১০(গ)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।














