২৪ অক্টোবর ২০২৬

দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সেবাপ্রার্থীরা

চট্টগ্রামের বিআরটিএ কার্যালায় ‘দালালদের দখলে’

চট্টগ্রামের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়টি দালালদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রত্যাশী লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। দালালদের সঙ্গে কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের বিআরটিএ বালুচরা শাখায় দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সেবাপ্রার্থীরা। কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দালালরা গ্রাহকদের কাগজপত্র জোর করে নিয়ে কাজ আটকে রাখে। ফলে বাধ্য হয়েই বাড়তি টাকা দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো মোটরসাইকেল বা অন্য যানবাহন বিআরটিএতে ঢুকলেই দালালরা দৌড়ে গিয়ে কাগজপত্র সংগ্রহ করে নেয়। এরপর বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় কাজ আটকে রেখে গ্রাহকদের দালালদের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাপ্রার্থী বলেন, দালালদের উৎপাতের কারণে আমরা নিজেরা কাজ করতে পারি না। উপরের মহলের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তারা আমাদের বাধ্য করে। দিনশেষে কর্মকর্তারা দালালদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন পান। তাই আমরা কিছু বলতেও পারি না।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ। তিনি বিআরটিএ’র নম্বর প্লেট শাখার কর্মচারী শাকিলকে কমিশনের মাধ্যমে ম্যানেজ করে নম্বর প্লেটের যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন। সেবাপ্রার্থীরা বলছেন, রাশেদের বাইরে গিয়ে নম্বর প্লেটের কাজ করানো প্রায় অসম্ভব।

শুধু নম্বর প্লেট নয়, গাড়ির নাম পরিবর্তনের কাজ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন রাশেদের ছোট ভাই মাসুদ। অন্যদিকে গাড়ির ডকুমেন্টসের যাবতীয় কাজ করেন আরেক দালাল হান্নান।

ভুক্তভোগীরা জানান, দালালদের হয়রানির কারণে অনেক মোটরসাইকেল চালক ও গাড়ির চালক কাগজ হাতে না পেয়ে রাস্তায় পুলিশি হয়রানির শিকার হন। দালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে দাবি তাদের।

এদিকে একাধিক সেবাপ্রার্থী জানান, সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে কাজ করাতে গেলে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়। অথচ দালাল ধরলে এক ঘণ্টার মধ্যে কাজ হয়ে যায়। এতে বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বিআরটিএ’র মতো সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে এভাবে দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষের জন্য হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগ বিষয়ে বিআরটিএ’র লাইসেন্স শাখায় যোগাযোগ করা হলে তারা দালাল প্রসঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে বলে ফোন কেটে দেন।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে একাধিকবার ফোনে যোগাযেগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ