চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কুপিয়ে জখম করা এক মুদি দোকানির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত মো. আলী (৫৫) চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাগুন তালুকদার বাড়ির মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি পেশায় মুদির দোকানদার ছিলেন।
শনিবার (তারিখ) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মো. আলীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, মো. আলীর সঙ্গে প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তাঁর নতুন বাড়ির সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মো. আলী, তাঁর স্ত্রী নুর আয়েশা (৫০) এবং ছেলে ইকবাল (৩২)-কে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত স্ত্রী ও ছেলে তিনদিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মো. আলী।
এ ঘটনায় গত বুধবার নিহতের ছেলে এমরান হোসেন (২৫) বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কর্ণফুলী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাহাঙ্গীর আলম (৪০), আকবর (৩৩) ও মো. আলমগীর (৪২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের ভাতিজা ডা. মো. বেলাল বলেন, ‘আমার চাচার মাথায় ধারালো কিরিচ দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও ছেলেও আহত হন।’
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম বলেন, ‘কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’














