৩০ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামে শৈশব কাটানো সঞ্জয় মাতালেন বিশ্বকাপ মঞ্চ

ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে এবার নতুন ইতিহাসের অংশ হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী সঞ্জয়। তবে এই অর্জন শুধু একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি চট্টগ্রামের জন্যও গর্বের এক অনন্য মুহূর্ত। কারণ মৌলভীবাজারে জন্ম হলেও সঞ্জয়ের শৈশব ও বেড়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে চট্টগ্রামের লাভ লেইনে। সেই শহরের স্মৃতি বুকে নিয়েই তিনি উঠে গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের উদ্বোধনী মঞ্চে।

শনিবার কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী হিসেবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে জায়গা করে নেন সঞ্জয়। তার সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করেন আন্তর্জাতিক তারকা নোরা ফাতেহী ও ফরাসি হিপ-হপ শিল্পী ভেভেড্রিম। তারা একসঙ্গে পরিবেশন করেন ফিফার অফিসিয়াল গান ‘সির সির’, যা মুহূর্তেই দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়।

তবে সঞ্জয়ের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনায় আসে তার বিশেষ পোশাক। বিশ্বকাপের মঞ্চে পরা জ্যাকেটের ডান হাতায় এমব্রয়ডারির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং জাতীয় পতাকার প্রতীক। পারফরম্যান্সের সময় বারবার সেই অংশ দর্শকদের সামনে তুলে ধরে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচয় ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্য বাংলাদেশের মানুষের পাশাপাশি চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যেও বাড়তি আবেগ তৈরি করেছে। কারণ বিশ্বমঞ্চে উঠে যাওয়া এই শিল্পীর বেড়ে ওঠার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।

পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেও নিজের শেকড়কে কখনো ভুলে যাননি সঞ্জয়। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই শিল্পী বাংলা সংগীতের উপাদানকে আধুনিক ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সঙ্গে মিশিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি করেছেন নিজস্ব পরিচয়।

বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনেও রয়েছে তার উজ্জ্বল উপস্থিতি। হাবিব ওয়াহিদ, তাহসান খান ও জেফার রহমানের মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। এছাড়া বিপিএল ২০২৫-এর থিম সং তৈরিতেও ছিল তার সম্পৃক্ততা।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সঞ্জয় শুধু একজন সফল শিল্পী হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেও নিজেকে তুলে ধরেছেন। আর চট্টগ্রামে কাটানো তার শৈশবের স্মৃতি আজ যেন নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সঙ্গে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরার এই মুহূর্ত তাই চট্টগ্রামবাসীর জন্যও গর্বের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন