কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে গুলিবর্ষণ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক সুবিধা ভোগের পর এখন বিএনপির ছত্রচ্ছায়ায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এক যুবদল নেতা।
অভিযোগকারী পিএমখালী ইউনিয়ন যুবদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশেক উল্লাহ দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়ও তিনি বিএনপি-জামায়াতবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সম্প্রতি কক্সবাজারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুধী সমাবেশে আব্দুল্লাহ চেয়ারম্যান অংশ নিতে পারেন— এমন তথ্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগকারীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আশ্রয়ে দীর্ঘদিন সুবিধা নেওয়া একজন ব্যক্তি যদি এখন বিএনপির পরিচয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন, তাহলে তা দলের ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তা উভয় ক্ষেত্রেই প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহর লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনরত বিএনপি নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অস্ত্রের জন্য বরাদ্দকৃত গোলাবারুদের হিসাব নিয়েও অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতীতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।
অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আব্দুল্লাহর ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন অভিযোগকারী।
আশেক উল্লাহ তার অভিযোগে চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি পুনর্বহাল হন। এ পুনর্বহালকে ঘিরেও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তবে এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।













