৩০ অক্টোবর ২০২৬

পুষ্টি বাগান প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধে হতাশ প্রান্তিক কৃষকরা

চলতি অর্থবছরে পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পের জন্য নতুন কোনো সরকারি বরাদ্দ ও কার্যক্রম না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা। প্রকল্পের আওতায় পাওয়া বিনামূল্যের বীজ, সার, নেট ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

কৃষকদের দাবি, পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পের মাধ্যমে বসতবাড়ির আঙিনা ও অনাবাদি পতিত জমিতে নিরাপদ শাক-সবজি উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করে আয় করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে কোনো বরাদ্দ বা সহায়তা না আসায় সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

সম্প্রতি উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, জৈষ্টপুরা, আমুচিয়া ও করলডেঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেসব বসতবাড়ির আশপাশে পুষ্টি বাগান করা হতো, তার অনেকগুলোই এখন আগাছায় ভরে অনাবাদি হয়ে পড়ছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০২০-২১ অর্থবছরে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্প চালু করা হয়। এর আওতায় বোয়ালখালীর প্রতিটি ইউনিয়নে পুষ্টি বাগান স্থাপন, মাচায় সবজি চাষ, বস্তায় আদা চাষ এবং ১৬০টি প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

খরণদ্বীপ এলাকার কৃষাণী প্রভা দে জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে বাড়ির পাশে আট শতক জমিতে লালশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, ডাঁটা, থানকুনি, লাউ, মিষ্টি কুমড়া ও বরবটিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। পরিবারের চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারছেন। সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে আরও অনেক পরিবার উপকৃত হতো বলে তিনি মনে করেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র দে বলেন, নতুন পর্যায়ের প্রকল্প অনুমোদন বা বরাদ্দ না আসায় আপাতত কৃষকদের বিনামূল্যে উপকরণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে যারা নিজ উদ্যোগে পুষ্টি বাগান করছেন, তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে কৃষক পরিবারগুলোর সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পটির মেয়াদ চলতি জুন মাসে শেষ হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নতুন প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারি প্রকল্প না থাকলেও পতিত জমিতে চাষাবাদের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন