চট্টগ্রামে চার বছর আগে শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর লাশ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবেশী আবীর আলীর ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস বুধবার আসামির উপস্থিতিতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রামে আলোচিত পাঁচ বছরের শিশু আয়াত অপহরণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর নয়ারহাট এলাকার তালিমুল কোরআন নুরানী মাদ্রাসার মাঠসংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আয়াত।
পরে তদন্তে জানা যায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী আবীর আলী তাকে অপহরণ করেন। তবে কোথাও লুকিয়ে রাখার সুযোগ না পেয়ে তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেন।
ঘটনার তদন্তে মাঠে খেলতে থাকা শিশুদের সঙ্গে কথা বলে পিবিআই জানতে পারে, নিখোঁজের আগে আয়াতকে কোলে নিতে দেখা যায় আবীরকে। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর আবীর দুটি ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হন।
তদন্তের সূত্র ধরে ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ঘটনার পর ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন সুইচ গেইট এলাকার একটি গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা উদ্ধার করা হয়। পরদিন উদ্ধার করা হয় তার খণ্ডিত মাথা।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে। অভিযোগপত্রে আবীরের পাশাপাশি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকেও অভিযুক্ত করা হয়। ওই কিশোরের বিচার বর্তমানে শিশু আদালতে পৃথকভাবে চলছে।
মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। গত শনিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করেছিলেন।













