২৪ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজান

গাছের মালিকানা নিয়ে বিরোধ, চাচাতো ভাইকে পিটিয়ে হত্যা!

চট্টগ্রামের রাউজানে ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি শিরীষ গাছের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে জেঠাতো ভাইয়ের হামলায় আহত এক মুদি ব্যবসায়ী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত আব্দুল মান্নান সওদাগর (৩৮) উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জনিপাথর এলাকার মোহাম্মদ কবির আহাম্মদের ছেলে। তিনি জনিপাথর বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার জেঠাতো ভাই একই এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহান, তিনি সালেহ আহমেদের ছেলে।

পরিবার, স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাস্তার পাশের একটি শিরীষ গাছ পুকুরে পড়ে যায়। গাছটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে গত ২৫ জুন স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে নিহতের বড় ভাই লোকমান সওদাগর গাছটি কিনে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, সালিস বৈঠক শেষে ওইদিন দুপুরে আব্দুল মান্নান নিজ দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত শাহজাহান পেছন থেকে একটি গাছের গুঁড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে আরও মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) শয্যা না পাওয়ায় তাকে নগরীর বায়েজিদ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৯ জুন) প্রথম প্রহরে তিনি মারা যান।

নিহতের বড় ভাই লোকমান সওদাগর অভিযোগ করে বলেন, ‘তুচ্ছ একটি গাছকে কেন্দ্র করে আমার জেঠা ও জেঠাতো ভাই পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। অভিযুক্ত শাহজাহান এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’ তিনি জানান, দাফন সম্পন্নের পর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গাছের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ।’

ডাবুয়া আমির চৌধুরী জামে মসজিদের খতিব ও রাউজান প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ বেলাল উদ্দিন মাইজভান্ডারী বলেন, ‘সামান্য সম্পত্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির ঘটনা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সহিংসতার প্রবণতার উদ্বেগজনক বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ এপ্রিল একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরটিলা এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রকৌশলী নুরুল আলম বকুল (৪৩) নিহত হওয়ার ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধে সহিংসতার এমন ধারাবাহিক ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ