চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয় দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে একটি প্রতারক চক্র। ভুয়া বিকাশ এসএমএস, কনফারেন্স কল এবং পুলিশি ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হলেও শেষ মুহূর্তে সতর্ক হওয়ায় প্রতারণার শিকার হননি ওই কর্মকর্তা।
জানা গেছে, গত ২ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব পংকজ দত্তের মোবাইল ফোনে কর্ণফুলী থানার ওসি পরিচয়ে একটি কল আসে। এর আগে তার মোবাইলে একটি ভুয়া বিকাশ এসএমএস পাঠানো হয়, যাতে উল্লেখ করা হয় যে তার নম্বরে ২০ হাজার টাকা এসেছে।
ফোনে প্রতারক দাবি করেন, সরকারি কোষাগারের ২০ হাজার টাকা ভুলবশত তার বিকাশ নম্বরে চলে গেছে। দ্রুত পরিচিত কোনো বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে সেই টাকা ফেরত পাঠানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন তিনি।
বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে প্রতারক গ্রাম পুলিশ বেলাল নামে একজনকে কনফারেন্স কলে যুক্ত করেন। একই সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়ে আটক করার হুমকি দিয়ে বলা হয়, তার সামনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।
ঘটনার সময় পংকজ দত্ত বাজারে থাকায় আশপাশের কোলাহলের কারণে প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। একপর্যায়ে প্রতারক তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজও করেন। তবে শেষ মুহূর্তে সন্দেহ হওয়ায় তিনি কোনো টাকা পাঠাননি এবং প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পান।
প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট করে এমন প্রতারণার ফাঁদ পেতে থাকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
এ ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দোঘড়িয়া গ্রামের নলাহাঙ্গা পানিতলাহাট এলাকার রওশন আরা বেগমের নামে নিবন্ধিত। তবে প্রাথমিক তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে, তার নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে অন্য কেউ প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ভুক্তভোগী পংকজ দত্ত জানান, অভিনব কৌশলে তাকে ২০ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি টাকা পাঠাননি।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ওসি ইখতিয়ারউদ্দিনের কাছে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনা বাড়ছে। তাই অপরিচিত নম্বর থেকে এ ধরনের ফোন পেলে বা ভুয়া এসএমএসের মাধ্যমে টাকা ফেরতের দাবি করা হলে কোনোভাবেই অর্থ লেনদেন না করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।














