২৪ অক্টোবর ২০২৬

বন্যায় পটিয়ার মৎস্য-প্রাণিসম্পদ খাতে বড় ধাক্কা, ৬ কোটির বেশি ক্ষতি

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের বন্যায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি মাছের পুকুর, ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ। একই সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন শতাধিক ডেইরি খামারি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দুই খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি টাকারও বেশি।

উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে শোভনদণ্ডী, ছনহরা, ভাটিখাইন, খরনা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, কুসুমপুরা এবং পৌরসভা এলাকার মাছের ঘের ও পুকুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কেলিশহর, হাইদগাঁও, ধলঘাট ও দক্ষিণ ভূর্ষি এলাকার পোনা উৎপাদনকারী খামারও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে শুধু মৎস্য খাতেই প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শোভনদণ্ডী এলাকার মাছচাষি মো. লোকমান জানান, ব্যাংকঋণ নিয়ে তিনি অর্ধশতাধিক পুকুরে মাছ চাষ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ১৫টি পুকুর সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ায় তাঁর ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় ঋণ পরিশোধ, খামার পরিচালনা এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়া নিয়েও তিনি চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

পটিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পর সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহায়তা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে, পটিয়ার ৩০০টির বেশি ছোট-বড় ডেইরি খামারও বন্যার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে। কাঁচা ঘাস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং পশুখাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় দুধ উৎপাদন কমে গেছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উৎপাদিত দুধ বাজারে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে বিপুল পরিমাণ দুধ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশু মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পটিয়া ডেইরি খামার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাসেল বলেন, বাজারে প্রতি লিটার দুধের দাম ৮০ টাকা হলেও অনেক খামারি ৩০ থেকে ৪০ টাকাতেও দুধ বিক্রি করতে পারেননি। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুধ বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন জরুরি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, প্রাণিসম্পদ খাতে প্রাথমিকভাবে ৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। তালিকা সম্পন্ন হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ও ডেইরি খামারিদের দাবি, দ্রুত আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে অনেক খামারি তাদের খামার চালিয়ে যেতে পারবেন না। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও খাদ্য উৎপাদনেও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ