৩০ অক্টোবর ২০২৬

শিশু বর্ষা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু, কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা

চট্টগ্রামে শিশু মারজান হক বর্ষা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার মামলার বাদী, নিহতের মা ঝর্ণা বেগমের সাক্ষ্য নেন চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা।

এর আগে ২১ জুলাই চট্টগ্রামের প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোস্তাক আহমদ আসামি লক্ষণ দাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলা বদলির আদেশ দেন।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, ‌‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ অভিযোগ গঠনের পর মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। আজ বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যে দিয়ে সাক্ষ্য শুরু হল। আগামী রোববার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।’

আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে নিহত বর্ষার মা ও মামলার বাদী ঝর্ণা বেগম তার মেয়ের নিখোঁজ হওয়া থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আদালতের কাছে ঝর্ণা বেগম আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে বলেন, ‘আর যেন কোনো শিশুর এভাবে মৃত্যু না হয়।’

এই মামলায় আসামি লক্ষণ দাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মামলার অভিযোগপত্রে মোট সাক্ষী ২০ জন।

২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর বিকালে নগরীর কোতোয়ালী থানার জামালখান এলাকায় শিকদার হোটেলের পাশের গলির বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন শিশু মারজান হক বর্ষা। তার খোঁজ না পেয়ে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিল পরিবার।

তিনদিন পর শিকদার হোটেল সংলগ্ন বড় নালায় বস্তাবন্দি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে নালা থেকে বর্ষার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে।

বস্তার গায়ে টিসিবির সিলমোহরের সূত্র ধরে লাশ উদ্ধারের পরদিন শিকদার হোটেলের গলির মুখে থাকা মুদি দোকান শ্যামল স্টোরের কর্মচারী লক্ষণ দাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্থানীয় কুসুমকুমারী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী বর্ষা ওই এলাকাতেই থাকত পরিবারের সঙ্গে। তার বাবা আব্দুল হক, মা ঝর্ণা বেগম। তাদের ছয় মেয়ের মধ্যে সবার ছোট বর্ষা।

গ্রেপ্তারের পর লক্ষণ দাশ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বর্ষাকে ধর্ষণের পর হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়।

২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর বিকেলে বর্ষা বাসা থেকে বেরিয়ে চিপস কিনতে যাচ্ছিল। সেসময় লক্ষণ দাশ তাকে ডেকে নিয়ে শিকদার হোটেলের পাশের গলিতে একটি ভবনের নিচতলায় থাকা শ্যামল স্টোরের গুদামে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে পাশের নালায় ফেলে দেয়।

এই মামলায় আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ভিকটিমের ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে মিলিয়ে বিশ্লেষণের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে পাঠান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

২০২৫ সালের ৭ মে ডিএনএ প্রতিবেদন মেলে। তবে তখন পর্যন্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না মেলায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। চলতি বছরের ৩০ মার্চ এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হয়।

আরও পড়ুন