রাত ১২টায় স্ত্রীর জন্মদিনের কেক কেটেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিল আনন্দ, হাসি আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গল্প। কেউ কল্পনাও করেননি, মাত্র আড়াই ঘণ্টা পর সেই ঘরেই নেমে আসবে শোকের কালো ছায়া। আকস্মিক হৃদরোগে মারা গেছেন চট্টগ্রামের তরুণ ব্যবসায়ী সৈয়দ আবুল হাসনাত সায়হান (৩৭)।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৭ জুলাই স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে থাইল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন সায়হান। আগে থেকেই ২৬ জুলাই দেশে ফেরার টিকিট কাটা ছিল।
ভ্রমণ শেষে সেদিন রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রামে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। রাত ১২টায় স্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন করেন। কিন্তু রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সায়হানের মৃত্যু যেন এখনও মেনে নিতে পারছেন না তাঁর বড় ভাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইকে নিয়ে লেখা এক আবেগঘন স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই দুই ভাই ছিলেন খুবই ঘরকুনো। কাজ বা চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া দেশের বাইরের সফর খুব একটা হতো না। তাই ১৭ জুলাই ব্যাংকক যাওয়া ছিল পরিবারের জন্য একটি বিশেষ ভ্রমণ।
ছোট ভাইকে তিনি আদর করে ডাকতেন ‘মি. কুল’।
কারণ, সায়হান ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ধীরস্থির ও গোছানো স্বভাবের। বড় ভাই লিখেছেন, “যদি জানতাম, ২৬ জুলাই শুধু দেশের ফেরার নয়, পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ারও রিটার্ন টিকিট কেটে রেখেছিস—তাহলে যেকোনোভাবে তোর সেই যাত্রা থামানোর চেষ্টা করতাম।”
আরও লিখেছেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তুই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলি। সব সময় বলতিস, ‘ভাইয়া, তুমি চিন্তা কোরো না, আমি দেখছি।’ আজ তাহলে এত তাড়াহুড়ো কেন ছিল? আমাদের ২০ মিনিট সময়ও দিলি না।”
তিনি জানান, জানাজার দিন মানুষের ঢল দেখে তিনি নতুন করে উপলব্ধি করেছেন, সায়হানকে কত মানুষ নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সায়হান চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মরহুম সৈয়দ জামাল আহমেদের কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি মা, বড় ভাই, স্ত্রী, এক পুত্রসন্তানসহ অসংখ্য স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
গত ২৭ জুলাই বাদ আসর কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর কাজী বাড়ি হতে রওয়ানা হয়ে কেইপিজেড গেইট প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। পিতার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি।
একটি জন্মদিনের রাত, একটি পরিবারের আনন্দ আর একটি আকস্মিক বিদায়—সব মিলিয়ে সায়হানের গল্প এখন শুধুই অশ্রু, স্মৃতি আর প্রার্থনার।













