৩০ অক্টোবর ২০২৬

গুরুপূর্ণিমায় চট্টগ্রামে ‘গুরু প্রণাম’, সুর-সাধনায় শ্রদ্ধা নিবেদন

গুরুপূর্ণিমা উপলক্ষে চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গুরু প্রণাম: সুর, সাধনা ও শ্রদ্ধা’ শীর্ষক এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গুরু পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদ ২০২৬-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বরেণ্য তবলাশিল্পী ও গুরু শ্রী সুদীপ সেনগুপ্ত-এর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন করা হয়।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তবলা গুরু সুদীপ সেনগুপ্ত বলেন, ‘জীবনে গুরুর স্থান সর্বোচ্চ। গুরুর কাছ থেকেই আমরা জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মানবিকতার শিক্ষা লাভ করি। গুরুর আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে চলা শিক্ষার্থীদের সাফল্য অনিবার্য।’

বক্তারা বলেন, গুরু কেবল একজন শিক্ষক নন, তিনি একজন মানুষের জীবন গঠনের স্থপতি। দীর্ঘদিন ধরে তবলা সাধনা ও নতুন প্রজন্মের শিল্পী গড়ে তোলার মাধ্যমে সুদীপ সেনগুপ্ত সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

অনুষ্ঠানে রেওয়াজের শিষ্যবৃন্দ পরিবেশন করেন গুরুবন্দনা। এছাড়া প্রখ্যাত শিল্পী দোলন কানুনগো মোহনবীণা বাদন পরিবেশন করেন। দর্শকদের মুগ্ধ করে রূপক তবলা ইনস্টিটিউশন-এর বৃন্দ তবলা লহরা, যার পরিচালনায় ছিলেন আশীষ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও কণ্ঠসংগীত পরিবেশন করেন রিটন কুমার ধর এবং বেহালা বাদন পরিবেশন করেন অপরাজিতা চৌধুরী। বিভিন্ন পরিবেশনায় তবলা, হারমোনিয়াম ও তানপুরায় সহযোগিতা করেন একাধিক শিল্পী। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী প্রবীর পাল।

আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন আহ্বায়ক বুলান দত্ত ও সদস্য সচিব সানি দে। তাঁদের পরিকল্পনা ও শিল্পীদের আন্তরিক অংশগ্রহণে ‘গুরু প্রণাম’ পরিণত হয় গুরু-শিষ্য সম্পর্ক, সুরসাধনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গুণীজন উপস্থিত ছিলেন। শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা, জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির এই চর্চা আগামী প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ ও শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করবে।

আরও পড়ুন