চট্টগ্রামের পটিয়া ও কর্ণফুলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এখতিয়ার লঙ্ঘন করে দলিল নিবন্ধনের অভিযোগে করা রিট আবেদন আমলে নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির হায়াত চৌধুরী ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
পটিয়া দলিল লেখক সমিতির পক্ষ থেকে দায়ের করা রিটে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আওতাভুক্ত জমির দলিল অনিয়মের মাধ্যমে কর্ণফুলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধন করা হচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ নানা ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় পড়ছেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, আদালত রিটটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন। এর আগে একই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছিল।
পটিয়া দলিল লেখক সমিতির নেতারা হাইকোর্টের এ আদেশকে তাদের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। সমিতির সভাপতি শামসুদ্দোহা ও সাধারণ সম্পাদক প্রণব দাশ বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর এখতিয়ার অনুযায়ী দলিল নিবন্ধন নিশ্চিত করা, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং জনগণের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাদের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তারা জানান, অনিয়ম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, হাইকোর্টে রুল জারির বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
অন্যদিকে, হেবা দলিল নিবন্ধন নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনেও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৮ জুলাই নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) শামীমা আফরোজ, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আসরাফুজ্জামান এবং চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক (আইআরও) মাহফুজার রহমান খানের সঙ্গে পটিয়া দলিল লেখক সমিতির নেতাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে আইআরও মাহফুজার রহমান খান চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কক্সবাজারের জেলা রেজিস্ট্রারকে হেবা দলিল নিবন্ধনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। সমিতির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে হেবা দলিল নিবন্ধনসংক্রান্ত বিদ্যমান জটিলতার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান হবে।













