২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশ ছাড়ার আগেই কড়াকড়ি, চসিকের আলোচিত প্রকৌশলী দম্পতিসহ ৪ কর্মকর্তার বিদেশযাত্রা বন্ধ

দুর্নীতির তদন্তে থাকা ৪ কর্মকর্তা ‘নো ফ্লাই’ তালিকায়, চসিকের দুই প্রকৌশলীও রয়েছেন

দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের চার কর্মকর্তার বিদেশযাত্রা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ জুলাই যুগ্মসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তা যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিদেশযাত্রা বন্ধের নির্দেশ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান, ডিএসসিসির সাবেক ও বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশনে কর্মরত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী (বর্তমানে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে বদলির আদেশাধীন) এবং চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তা (বর্তমানে রংপুর সিটি করপোরেশনে বদলির আদেশাধীন)।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তদন্তাধীন এসব কর্মকর্তা গোপনে দেশত্যাগের চেষ্টা করতে পারেন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিদেশযাত্রা বন্ধে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চসিকের দুই কর্মকর্তাকে ঘিরে আগে থেকেই আলোচনা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২৫ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে।

অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়। তবে এসব অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন এবং এখনো প্রমাণিত হয়নি।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। তদন্ত চলমান অবস্থায় পরবর্তীতে শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এবং ফারজানা মুক্তাকে রংপুর সিটি করপোরেশনে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরসহ চার কর্মকর্তার বিদেশযাত্রা বন্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশকে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, অতীতে ২০১৭ সালে এক শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগে শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি চাকরিতে ফিরে আসেন। তবে বর্তমান বদলির আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের তথ্যও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদেশযাত্রা বন্ধের নির্দেশ তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অংশ।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ